৫৭ ধারার পক্ষে যারা

সুমন দত্ত

গণমাধ্যমে এই মুহূর্তে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে কথা হচ্ছে। আইনটি তুলে দেবার কথা বলছেন কেউ কেউ। বলা হচ্ছে, সংবাদ পত্রের মালিক, প্রকাশক, সম্পাদক সবাই এই আইনের বিরুদ্ধে। তাদের মতে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা হচ্ছে এই আইন। বেশ কয়েকজন ডাক সাইটের সাংবাদিককে এই আইনে গ্রেফতার করা হলে এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

বাংলাদেশে বহু আইন আছে। কিন্তু আইন মানার সংস্কৃতি এখানে গড়ে উঠেনি। যে কারণে প্রশাসন যদি কাউকে আইন মানাতে যায় তখন হিতে বিপরীত ঘটনা ঘটে। আর সেটাই ঘটছে ৫৭ ধারা নিয়ে। আইসিটি আইনটি সঠিক ভাবে মানা হলে এবং সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে এ নিয়ে কোনো কথা উঠত না। কিন্তু সেটি হয়নি বলে তা বাতিল করার কোনো মানে নেই। মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কি উচিত? নাকি মাথা ব্যথার জন্য ওষুধ খাওয়া উচিত। আমরা বার বার ভুলে যাই কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই তাকে গ্রেফতার করা যায় না। অভিযোগ মানেই গ্রেফতার নয়। ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে বেশ কয়েকটি ধাপ পরীক্ষা করে তদন্তকারী পুলিশ। তারপর অভিযোগ আমলে নেন তারা। বাস্তবে দেখা গেছে প্রশাসনের অতি উৎসাহী লোক এই আইনের অপব্যবহার করেছেন। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি।

প্রচলিত ফৌজদারি আইনের একটি সাধারণ নিয়ম অভিযোগ প্রমাণের আগে ব্যক্তির সম্মানহানি করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ অভিযোগ প্রমাণের আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে অপরাধীর মত ব্যবহার করেন। যা আইনসংগত আচরণ নয়। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। তেমনি মরা ছাগলের প্রতিবেদন নিয়েও পুলিশ এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে।

কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে পুলিশ দেখেন অপরাধ আমলযোগ্য কিনা। আমলযোগ্য হলে পুলিশ নিজেই অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন। অথবা পুলিশ অভিযোগকারীকে আদালতের শরণাপন্ন হবার পরামর্শ দেবেন। আদালতও দেখবে অপরাধ কোন পর্যায়ের। সাধারণ বিষয় নিয়ে আদালতে যাওয়া ঠিক নয়। যিনি বিচার করছেন তাকেও বুঝতে আদালত জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। কোনো দলের আদর্শ, ব্যক্তির সুনাম রক্ষার জন্য আদালত নয়। বিশেষ ব্যক্তির ছবি কিংবা মরা ছাগলের কীর্তি আদালতের বিচার্য বিষয় হতে পারে না। ওসব রাজনৈতিক দলের বিচার্য বিষয় হতে পারে, আদালতের নয়। তাই সব বিষয় নিয়ে আদালতে যাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু দেশে আজকাল এমনসব চামচা শ্রেণির তৈরি হয়েছে যাদের কাজ হচ্ছে চামচামি করে ব্যক্তি স্নেহভাজন হওয়া। আর এসব কারণেই ঘটছে নানা ধরনের বিপত্তি।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা ওই চামচা শ্রেণির কারণেই বিতর্কিত হচ্ছে। আইনটি অন্য সাধারণ আইনের মতই। এর মধ্যে এমন কিছু নাই যে এটি বাতিল করতে হবে। স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়। এটা বুঝতে হবে আমাদের সাংবাদিক সমাজকে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সাংবাদিকরাও আইনের ঊর্ধ্বে নয়।