সাবেক প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরীর বাসার বৈঠকে নয়া জোট গঠনের সিদ্ধান্ত

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের অংশ হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসভবনে সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন।

বুধবার রাতে বারিধারায় বি. চৌধুরীর বাসভবন মায়াবীতে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে নয়া জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। যত দ্রুত সম্ভব এই জোটের আত্মপ্রকাশ করা যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

আগামীতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিন ঘণ্টার এ বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বৈঠকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সমন্বয়ক করে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। আসন্ন নতুন জোটে সব দলের প্রতিনিধিই এ কমিটির সদস্য হবেন। প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করারও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠকে জানা গেছে।

বৈঠকে বি. চৌধুরী ছাড়াও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব ও তার স্ত্রী তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, স্থায়ী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৩ জুলাই রাতে রবের উত্তরার বাসায় পুলিশি বাধার মুখে বৈঠক হয়েছিল।

এ বৈঠক প্রসঙ্গে বি. চৌধুরী বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক। এ অবস্থার অবসান জরুরি। আমরা দীর্ঘদিন থেকেই দেশের চলমান এ অবস্থায় করণীয় নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। আমরা মনে করি, গণতন্ত্রমনা দেশপ্রেমিক সবাইকেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আসম আবদুর রব বলেন, আমাদের মতের ভিন্নতা আছে, দলগুলোর নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু জাতীয় ইস্যুতে আমাদের এক হতে হবে। এক মঞ্চে আসতে হবে। দুই দল ও তাদের জোট ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা চাইলে সফল হতে পারি। সে সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে। তাই আমাদের যে কোনো মূল্যে একত্র হতে হবে। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।

জিএম কাদের বলেন, ‘বি. চৌধুরী সাহেব একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেজন্য আমি এসেছি। অনেক রাজনৈতিক নেতাই এখানে এসেছেন। অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। জাতীয় পার্টি নতুন জোটে অংশ নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আলাদা জোট আছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না। তবে নতুন কিছু করতে চাই।’

সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে একটি বিকল্প শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটুক- সেটা চাই। আমরা মনে করি, দেশ পরিচালনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে, বিএনপিও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ অবস্থায় নতুন শক্তির আত্মপ্রকাশ জরুরি। সে চেষ্টাই আমরা করছি।