লাইসেন্স বাঁচাতে আরও ১২৮ কোটি টাকা চাই সিটিসেলের

নিউজ ডেস্ক:  লাইসেন্স বাঁচাতে হলে সিটিসেলকে পরিশোধ করতে হবে ১২৮ কোটি টাকা। আদালতের মাধ্যমে গঠিত অধ্যাপক জামিলুর রেজা কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে অপারেটরটির কাছে আরও ১২৮ কোটি ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা পাবে বিটিআরসি।

বিটিআরসির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখন এই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবেন। একই সঙ্গে টাকা জমা দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দিয়ে সিটিসেলকেও চিঠি দেবেন ।

এর আগে অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিল প্রায় চূড়ান্ত হয়েই গিয়েছিল। যেকোনো সময় গণবিজ্ঞপ্তি জারিও হয়ে যেত। ওই অবস্থায় আদালতের রায়ে স্পেকট্রাম ফেরত পেয়েছে তারা।

চলতি সপ্তাহে অধ্যাপক জামিলুর রেজার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন অনুসারে, লাইসেন্স নবায়নের স্পেকট্রাম ফি’র দুই কিস্তির টাকা বাকি থাকাসহ ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সব মিলে অপারেটরটির বকেয়া হয় ৩৭২ কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৬৭ টাকা।

যার মধ্যে তারা ‍তিন দফায় পরিশোধ করে ২৪৪ কোটি ৬৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৪ টাকা।

অধ্যাপক জামিলুর রেজা কমিটির প্রতিবেদনে সিটিসেলের বকেয়া ও পাওনা পরিশোধের হিসাব

এর আগে গত সপ্তাহ পর্যন্ত লাইসেন্স বাতিলের সকল আয়োজনই সম্পন্ন করে ফেলেছ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। এমনকি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলও ঘুরে এসেছিল লাইসেন্স বাতিলের ফাইল।

গত বছরের অক্টোবর থেকে সেবায় না থাকা সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিটিআরসি মূলত পুরোনো বকেয়া পরিশোধ না করা, আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি দেনা যেমন স্পেকট্রাম এবং লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করা এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ আনে।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি সিটিসেলের স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়। তখন অবশ্য সিটিসেল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ৬ নভেম্বরে সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। সেটি আবার বাতিল করা হয় গত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

প্রথম দিকে বিটিআরসি দাবি করেছিল সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা।

বিটিআরসির এই টাকা বকেয়া থাকাসহ অপারেটরটির বাজারে অন্তত চার হাজার কোটি টাকার দেনা রয়েছে। গত জুন মাসে ৪৫৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা পাওনা আদায়ে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় নিলামে তোলে ন্যাশনাল ব্যাংক। যদিও শেষ পর্যান্ত সেই নিলাম হয়নি।

এর মধ্যে বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ে সিটিসেলকে ১৩ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে এর কর্মীরা। সিটিসেল ডিরেক্টর মোর্শেদ খান, নাসরিন খান, আসগর করিম, সিইও মেহবুব চৌধুরী, সিএফও তারিকুল হাসান, সিটিও মাহফুজুর রহমান, প্রফিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টির সদস্য নিশাত আলী খান, এ.বি সরকার বরাবরে এসব লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

তাছাড়া সম্প্রতি সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক হতে নেয়া সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ঋণে অনিয়ম-আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তখন এতে গ্রেপ্তার হন সিটিসেল সিইও মেহবুব চৌধুরী এবং পরে তিনি জামিন পান।