ক্রেডিট কার্ডের সুদ হার কমাছে না

নিউজ ডেস্ক;  ক্রেটিড কার্ডের ঋণের বিপরীতে ২৪ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করছে ব্যাংকগুলো। ক্রেটিড কার্ডের মাত্রাতিরিক্ত সুদ হারের লাগাম টানতে মাত্র দুই মাসে আগে নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ক্রেডিট কার্ডে সুদ হার নির্ধারণের পদ্ধতি ঠিক করে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলো ওই নীতিমালার বিরোধিতা করে চাপ দিয়ে আসছিল।

অবশেষে ব্যাংকগুলোর চাপের কাছে নতিশিকার করে ব্যাংকগুলোর প্রস্তাবিত পদ্ধতিতেই ক্রেডিট কার্ডে সুদ হার নির্ধারণ সুযোগ করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ডের নীতিমালার সংশোধনীর বিষয়টি জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

গত ১১ মে জারি করা ক্রেটিড কার্ড নীতিমালা অনুসারে, ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হারের তুলনায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হারে ক্রেটিট কার্ডের সুদ হার নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়। এটি সংশোধন করে ব্যাংকের অন্য যে কোন ঋণের সর্বোচ্চ সুদের সঙ্গে ৫ শতাংশ সুদ যোগ করে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে নীতিমালার কারণে সুদ হার যে পরিমাণ কমানোর আশা করা হয়েছিল তা কমবে না।

বর্তমানে ক্রেডিট আছে এমন ব্যাংকগুলোতে ভোক্তা ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। সেই হিসাবে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদহার হতো ১৭ থেকে ২০ শতাংশ। কিন্তু ভোক্তাঋণের সর্বোচ্চ সুদহারের সঙ্গে এ সেবার সুদহার নির্ধারণের বিষয়ে আপত্তি জানায় বেসরকারি খাতের দ্য সিটি, ব্র্যাক ও ইস্টার্ন ব্যাংক এবং বিদেশী খাতের স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্রেডিট কার্ডে ঋণ সেবাটি ব্যাংকের অন্যান্য সেবার মতো নয়। জামানতবিহীন ঋণ হওয়ায় এক্ষেত্রে খেলাপির ঝুঁকি অনেক বেশি। কিছু গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডে টাকা ঋণ নিয়ে ওই কার্ড আর ব্যবহার করেন না। ফলে এ সেবার গ্রাহকদের নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করতে হয়। তাছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার বেশি। এমন যুক্তি তুলে ধরে ব্যাংকের যে কোন ঋণের সর্বোচ্চ সুদের সঙ্গে ৫ শতাংশ সুদ যোগ করে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণের দাবি জানান তারা।