স্মার্টকার্ড বিতরণ ডিসেম্বরে শেষ করার কথা

নিউজ ডেস্ক : ‘স্মার্ট’ জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা।

বিদেশি ঠিকাদারের ‘ব্যর্থতা’ আর চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়ায় কার্ড উৎপাদনই থমকে আছে।

দেশের নয় কোটি নাগরিকের মাঝে স্মার্টকার্ড বিতরণের লক্ষ্য পূরণে হাতে আছে আর পাঁচ মাস।

কিন্তু এখন পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য সন্নিবেশ করে বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা গেছে মাত্র এক কোটি ২৪ লাখ কার্ড; যা বিতরণের কাজ চলছে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে।

উদ্যোগ নেওয়ার আড়াই বছর পরও দেশের মোট ভোটারের এক পঞ্চমাংশের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দিতে না পারার জন্য কার্ড সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়া ফ্রান্সের ‘অবার্থুর টেকনোলজিস’কে দোষারোপ করছে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগ।

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের উদ্যোগে স্মার্টকার্ড প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলছেন, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

“আমরা দ্রুত লোকবল প্রস্তুত করছি, পারসোনালাইজেশন মেশিনও কাজ করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। কেউ যেন এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হন বা দুশ্চিন্তা না করেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই কাজ শুরু হবে।”

তৈরির পর একটি স্মার্টকার্ডে একজন নাগরিকের তথ্য সন্নিবেশের মাধ্যমে তা ব্যবহার উপযোগী করাই ‘পারসোনালাইজেশন’।

২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নয় কোটি ভোটারকে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত স্মার্টকার্ড দিতে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ফরাসি কোম্পানি ‘অবার্থুর টেকনোলজি’র সঙ্গে চুক্তি করে ইসি।

ওই চুক্তির আওতায় ১৮ মাসের মধ্যে নয় কোটি কার্ড ফ্রান্স থেকে তৈরি করে এনে ইসি সচিবালয়ের পারসো সেন্টারে পারসোনালাইজেশনের পর উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করার কথা ছিল।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কার্ড সরবরাহ করতে না পারায় গতবছর অবার্থুরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় তাদের। এরপরও সব কার্ড সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটির কিছু বেশি কার্ড ফ্রান্স থেকে এসেছে। এখনও আড়াই কোটির বেশি ব্ল্যাঙ্ককার্ডের উৎপাদন বাকি।

তবে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, শিগগিরই আরও এক কোটির মতো কার্ড দেশে আসার কথা রয়েছে। তাতে মোট সাড়ে সাত কোটি কার্ড ইসি হাতে পেলেও প্রায় দেড় কোটি কার্ড সরবরাহ বাকি থাকবে।

ইসির হাতে আসা ছয় কোটি কার্ডের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র এক কোটি ২৪ লাখ কার্ডের পারসোনালাইজেশন হয়েছে। বাকি প্রায় পৌনে আট কোটি কার্ডে নাগরিকদের তথ্য সন্নিবেশ করতে লাগবে আরও অনেক সময়।

এ অবস্থায় কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন গত ২৩ জুলাই ‘অবার্থুর টেকনোলজি’র সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

ফ্রান্সের ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে ‘অপেশাদারিত্বের’ অভিযোগ এনে বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে ওই কাজ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবস্থাপনায় স্মার্টকার্ড তৈরির কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হওয়ায় আপাতত উৎপাদন বন্ধ।

আগারগাঁও ইসলামী ফাউন্ডেশন ভবনে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কার্যালয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিস’- আইডিইএ প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল বলেন, “বিদেশি সংস্থার সঙ্গে আমাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। জনগণের টাকায় এ চুক্তি হলেও ফ্রান্সের কোম্পানিটি ঠিক মতো কাজ করেনি। এ অবস্থায় নতুন করে আর সময় বাড়ানো হচ্ছে না।”

এখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্মার্টকার্ড উৎপাদন করে নাগরিকদের হাতে পৌঁছানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “কাজের হাতবদল হচ্ছে। বিদেশি কোম্পানির কাছে আমরা আর জিন্মি হয়ে থাকতে চাই না। বিশ্ব ব্যাংকের এ ঋণ দেশের জনগণের টাকায় শোধ করতে হচ্ছে; এ টাকা নিয়ে যদি ছিনিমিনি হয়, তা মেনে নেওয়া যায় না।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকদের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছানোর চেষ্টায় ইসি সচিবালয়ের মাধ্যমে পারসোনালাইজেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সচিবালয়ে ১০টি মেশিনে পুরোদমে এই কাজ (পারসোনালাইজেশন) চলবে।