বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে মোশতাক-জিয়া জড়িত ছিল : প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর, যারা নামে মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু হূদয়ে পাকিস্তান ছিল তারাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে দেশের চরম সর্বনাশ করেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যা করতে পারেনি, ঘরের আপনজন সেজে যারা আসা যাওয়া করলো, তারাই সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বেঈমানি করলো। বঙ্গবন্ধুর এত কাছে থেকে স্নেহ ভালোবাসা পেয়ে কিভাবে তারা বেঈমানি করলো? বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেছিল বেঈমান-মোনাফেক খুনি মোশতাক। এতে প্রমাণিত হয়- খুনি মোশতাকের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়াও জড়িত ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় শোক দিবসের মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে শুরু হওয়া হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিদের বিচার না করে ইনডেমনিটি দিয়ে বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে জেনারেল জিয়া। মাত্র আড়াই মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি খুনি মোশতাক। তাকে হটিয়ে রাষ্ট্রপতি সায়েমকে অস্ত্র ঠেকিয়ে সংবিধান লংঘন করে একাধারে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান ঘোষণা করেছিল জিয়া। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তখন দম্ভভরে বলেছিল- তাদের কেউ বিচার করতে পারবে না। শুধু খুনিদের পুরস্কৃতই নয়, যুদ্ধাপরাধীদের কারাগার থেকে মুক্ত করে রাজনীতিতে পুনর্বাসন এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বানিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছিল জেনারেল জিয়া। শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতিসহ তার পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনা পৃথিবীর কোনো দেশে হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, যে স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন- বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী আবেগ-আপ্লুত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সারাটা জীবন দেশের মানুষকে শুধু দিয়েই গেছেন, শুধু একখণ্ড রিলিফের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নিয়ে যাননি। ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে একটি কালো অধ্যায়।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের সর্বনাশ করলো, তাদের অনেকেই আমাদের বাসায় যাতায়াত করতো। খুনি ডালিমসহ তার শাশুড়ি, স্ত্রী, শালিকা দিনরাত পড়ে থাকতো বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। খুনি মেজর নূর মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে শেখ কামালের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছে। আর খুনি মোশতাকতো আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রী ছিল। কর্নেল ফারুক বঙ্গবন্ধুর ক্যাবিনেটের অর্থমন্ত্রী মল্লিক সাহেবের আত্মীয় ছিল। মেজর জিয়াকে মেজর জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতি দিয়েছিলেন জাতির পিতাই। এমনকি তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে যে ঝামেলা হয়েছিল তারও সমাধান করে দেন বঙ্গবন্ধু। মাসে দু’তিন বার খালেদা জিয়াকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে আসতো এই জিয়াউর রহমান।

আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামিম, ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।