একনেকে ৬৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে তিনটি স্থলবন্দর উন্নয়ন করা হচ্ছে। এগুলো হলো সিলেটের শেওলা, সাতক্ষীরার ভোমরা ও খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর। এসব স্থলবন্দরে পণ্যের শেড, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের দেয়ালসহ আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি স্থাপন করা হবে। এ জন্য সরকার ৬৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ–সংক্রান্ত ‘বাংলাদেশ রিজওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-১: শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, শেওলা স্থলবন্দরটি সিলেটের বিয়ানীবাজারে অবস্থিত, যা ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জের নিকটবর্তী। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে শেওলা স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। অন্যদিকে ভোমরা স্থলবন্দর সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই বন্দর দিয়ে পচনশীল পণ্যের কার্গো ইয়ার্ডে চাপ বেশি থাকায় এর সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ ছাড়া পদ্মা সেতু হওয়ার পর কলকাতার সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরের চেয়ে ভোমরার দূরত্ব কম হবে। এর ফলে এই স্থলবন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমদানি-রপ্তানি বাড়বে। এ দিকে সাসেক রোড কানেকটিভিটি প্রজেক্ট: বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ওই দুটি স্থলবন্দরের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু ওই প্রকল্পে বেনাপোল স্থলবন্দরের দেয়ালসহ আধুনিক সরঞ্জামাদি নির্মাণের বিষয়টি না থাকায় গতকাল পাস হওয়া প্রকল্পে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক দেবে ৫৯২ কোটি টাকা। বাকি অর্থ সরকার নিজের তহবিল থেকে দেবে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে।

এ দিকে গতকালের একনেক সভায় ৯৫৬ কোটি টাকার মোংলা থেকে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে চাঁদপুর, মাওয়া ও গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌপথে ড্রেজিং বা খনন করা হবে। পাকশীর কাছে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী মালামাল পরিবহন নিরাপদ ও সহজ করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পসংক্রান্ত জাতীয় মনিটরিং কমিটির চতুর্থ সভায় ‘চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে রূপপুর পর্যন্ত নৌপথের প্রয়োজনীয় ড্রেজিং করতে হবে’—এমন সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন এই নদীপথের নাব্যতা বৃদ্ধি করা হয়নি। নদীপথে পণ্য পরিবহনও বেশ সাশ্রয়ী।

গতকালের একনেক সভায় এই দুটি প্রকল্পসহ প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার মোট আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে দেওয়ার হবে ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বিদেশি সহায়তা পাওয়া যাবে ৫৯২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ৩৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন; ৩৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার জামালপুর-ধানুয়া কামালপুর-কদমতলা (রৌমারী) জেলা মহাসড়ক (কামালপুর স্থলবন্দর লিংকসহ) প্রশস্ত ও মজবুত; ৩৪২ কোটি টাকার রাজবাড়ী শহর রক্ষা (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প; ২০০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলাধীন যমুনা নদীর বাঁ তীরবর্তী কাউলীবাড়ী ব্রিজ থেকে শাখারিয়া (ভরুয়া-বটতলা) পর্যন্ত তীর সংরক্ষণ; ১৯০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে চাঁদপুর জেলার হরিণা ফেরিঘাট এবং চরভৈরবী এলাকার কাটাখাল বাজার রক্ষা এবং সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প।