৫ জানুয়ারি স্টাইলে আর নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না

নিউজ ডেস্ক:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মামলা মাথায় নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালতের বারান্দায় ঘুরবেন, আর আওয়ামী লীগ নেতারা হেলিকপ্টারে ঘুরে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন, তা মানা যায় না। এ দেশে ৫ জানুয়ারি স্টাইলে আর নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। গণআন্দোলন সৃষ্টি করে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে শেখ হাসিনাকে বাধ্য করা হবে।’

সকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। পরে তিনি একই স্থানে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন।

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি দুটিই একসঙ্গে চলবে। আওয়ামী লীগ যাতে ভোট ডাকাতি করতে না পারে, সেজন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে দেশ ছেড়ে পালানোর অপবাদ দেওয়ায় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ ছেড়ে পালানোর ইতিহাস আওয়ামী লীগেরই আছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তারা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশের মধ্যে থেকে যুদ্ধ করেছেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যাচার ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে আওয়ামী লীগ নেতারা শিক্ষা-বাণিজ্য করছেন। অন্যদিকে পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার রুটিনের দাবিতে আন্দোলন করলে তাদের গুলি করা হয়। সরকারের ভাণ্ডারে চাল নেই, তাই বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ দিতে পারছে না। অন্যদিকে বিএনপি ত্রাণ দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য আমরা গণআন্দোলন গড়ে তুলব।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘রোড তৈরি না করেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। কোনো প্রহসনের নির্বাচন করার চেষ্টা করা হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, কুদ্দুসুর রহমান, এবিএম মোশারফ হোসেন, এবায়দুল হক চান, মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ, জেবা রহমান, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, আনোয়ারুল হক তারিন প্রমুখ।