নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে

নিউজ ডেস্ক:  নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ এখন সুপ্রীমকোর্টের হাতে। এর আগে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যাস্ত ছিল। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধণী বাতিলের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক পর্যবেক্ষণে ১১৬ অনুচ্ছেদকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

এর ফলে ৭২ সালের আদি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুর্নবহাল হবে। বিচারবিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাজদার হোসেন মামলার রায়ে নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যাস্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ওই রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে সময় নিচ্ছে সরকার। উচ্চ আদালতে বিচাপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যাস্ত সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদ অবৈধ ঘোষণার মামলায় আপিল বিভাগ ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়টি সুরাহা করলো।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদন্নোতি দান ও ছুটি মঞ্জুরীসহ শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি ‘সুপ্রিমকোর্ট’-এর পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রপতির’ ওপর ন্যস্ত করার বিষয়টি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে শব্দের এই প্রতিস্থাপন সংবিধান পরিপন্থি বলেও অভিমত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। মঙ্গলবার বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি এই অভিমত দেন।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে- বিচারবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদন্নোতি দান ও ছুটি মঞ্জুরী) ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যাস্ত থাকিবে এবং সুপ্রিমকোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতির কর্ম প্রযুক্ত হবে।

সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি তার অভিমতে বলেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদে সুপ্রিমকোর্ট শব্দটির পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রপতি’ প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু সংবিধারনের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধনস্ত আদালতে তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হাইকোর্টের ওপর ন্যস্ত। ফলে ১১৬ ও ১০৯ অনুচ্ছেদ এক সঙ্গে মিলিয়ে ‘রাষ্ট্রপতি’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।