শাসকগোষ্ঠী চায় না তরুণেরা রাজনীতিতে আসুক:সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, লেখক ও শিক্ষাবিদ। প্রফেসর ইমেরিটাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যতম আহ্বায়ক, অক্টোবর বিপ্লব শতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটি। তিনি কথা বলেছেন রাজনীতি, নির্বাচন, সামাজিক বৈষম্য, জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ, শিক্ষা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে।

প্রশ্ন: আপনারা যখন অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছেন, তখন বাংলাদেশে বামপন্থীদের অবস্থা এত ক্ষয়িষ্ণু কেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: ঘটনাটাকে অবশ্য অন্য দিক থেকেও দেখা যায়। বামপন্থীদের অবস্থা ক্ষয়িষ্ণু না বলে পুঁজিবাদের অবস্থা বর্বরতার শেষ প্রা‌ন্তে পৌঁছেছে, এটা বলাই ঠিক হবে। পুঁজিবাদ এখন ফ্যাসিবাদী রূপ নিয়েছে এবং তার আগ্রাসনে মানুষ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সবকিছুই সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশে বামপন্থীদের বিপদও ওই আগ্রাসনের কারণেই ঘটছে। তদুপরি দেশে বাম আন্দোলন তো কখনোই প্রবল হয়ে উঠতে পারেনি। তবে পৃথিবীব্যাপী এখন পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম চলছে; প্রতিটি দেশের বামপন্থীরাই কাজটা করছে, নিজের মতো করে। বাংলাদেশেও চলছে। আমরা তো দেখছি মাঝখানের হতাশা ও জড়তা কাটিয়ে তারা এখন উঠে দাঁড়াতে চাচ্ছে। অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের উপল‌ক্ষে তাদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগেও ওই ইচ্ছা প্রতিফলিত।

প্রশ্ন: বামপন্থী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টির কার্যত অস্তিত্ব নেই।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: এটা ঠিক যে কোনো একটি কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান হয়ে দাঁড়ায়নি। তবে বেশ কয়েকটি সংগঠন ও গোষ্ঠী আছে। পার্টি না-খুঁজে বরং আন্দোলন খোঁজা ভালো। বামপন্থী আন্দোলন আছে। সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন যতটুকু আছে বামপন্থীরাই করছে, ডানপন্থীরা করছে না। বামপন্থী প্রবল নয়, এ নিয়ে উৎফুল্ল হওয়ার যেমন কারণ দেখি না, তেমনি হতাশ হওয়ারও কারণ নেই। হতাশার অপর নাম আত্মসমর্পণ। একাত্তরের কথা স্মরণ করুন, আত্মসমর্পণ করলে কি আমরা পাকিস্তানি হানাদারদের হটিয়ে দিতে পারতাম?

প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: দেখুন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা নিয়ে অপপ্রচার রয়েছে। স্বাধীনতার কথা কিন্তু বামপন্থীরাই প্রথমে বলেছে। মাওলানা ভাসানী সেটা প্রকাশ্যেই বলেছেন। একাত্তর হঠাৎ করেই ঘটেনি, তার প্রস্তুতির যে আন্দোলন হয়েছে, তার চালিকাশক্তি ছিল বামপন্থীরাই। একাত্তরে মস্কোপন্থীরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে চেয়েছে, তাদের যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। পিকিংপন্থীরা কয়েকটি ধারায় বিভক্ত ছিল; অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ ‘দুই কুকুরের’ তত্ত্ব প্রচার করেছে ঠিকই; কিন্তু তারাও যে যুদ্ধ‌ক্ষেত্রে হানাদারদের সঙ্গে কোনো কার্যকর সম্পর্ক স্থাপন করেছিল, এমন নয়। অন্য পিকিংপন্থীরা দেশের ভেতরে থেকেই হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। লড়াইটা আরও বড় সাফল্য অর্জন করত জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব যদি সমাজতন্ত্রীদের শত্রু মনে না করে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করত।

প্রশ্ন: কমিউনিস্ট পার্টিতে মস্কো-পিকিং বিভাজন কি সঠিক ছিল বলে মনে করেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: মস্কো-পিকিং বিভাজন অবশ্যই ক্ষতিকর হয়েছে। কিন্তু বিভাজনটা অনিবার্য ছিল। স্তালিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েত ইউনিয়নে ক্ষমতা চলে গিয়েছিল আমলাতন্ত্রের হাতে। পার্টি আমলাতন্ত্র সাধারণ আমলাতন্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর। কারণ, সে থাকে মতাদর্শের আবরণে। পার্টি আমলাতন্ত্রের অধীনে সোভিয়েত ইউনিয়ন তার বিশ্ববিপ্লবী অঙ্গীকার হারিয়ে ফেলে এবং পুঁজিবাদের সঙ্গে আপস করার জন্য শা‌ন্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অপুঁজিবাদী বিকাশের তত্ত্ব নিয়ে আসে। অপর দিকে পুঁজিবাদী বিশ্ব ব্যক্তিমালিকানার সুখের কথা প্রচার করতে থাকে। আমলাতন্ত্রের অধীনে যে শ্রেণিটি গড়ে উঠছিল, ওই প্রচারে তারা সাড়া দেয়। ব্যাপারটা মাও সে তুং টের পেয়েছিলেন, তাই তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু করেছিলেন। মাও সে তুংয়ের পর অবশ্য চীনও পুঁজিবাদী পথ ধরেছে। তবে বাংলাদেশে বিভাজনটা অনেক দূর চলে গেছে। এমনকি বিলোপবাদীরাও উঠে দাঁড়িয়েছেন। নেতৃত্ব যে অনেকাংশে বিদেশনির্ভর, সেই সত্যটাও বেরিয়ে এসেছে।

প্রশ্ন: বামপন্থীরা সাধারণত বলে থাকে, বুর্জোয়া বা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থাই সব সংকটের মূলে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো এর বিকল্প উন্নত ব্যবস্থা কায়েম করতে পারল না কেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: পুঁজিবাদী ব্যবস্থাই যে সংকটের উৎস, এটা এখন কিন্তু দ‌ক্ষিণপন্থীরাও স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। যে জন্য তারা পুঁজিবাদকে ‘মানবিক’ করার কথা বলে। আর ওই যে বলছেন সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো বিকল্প উন্নত ব্যবস্থা কায়েম করতে পারেনি, এটা কিন্তু মোটেই সত্য নয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা—এই মৌলিক চাহিদাগুলোর ক্ষেত্রে বিপ্লবের আগের রাশিয়া ও পরের রাশিয়ার তুলনা করলেই সত্যটা বেরিয়ে পড়বে। নারীর অবস্থা ভাবলে তো পরিবর্তনটা অবিশ্বাস্য মনে হবে। পাকিস্তান ‘স্বাধীন’ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে, চীনে বিপ্লব ঘটেছে ১৯৪৯-এ। তারপরে পাকিস্তানের অগ্রগতি ও চীনের অগ্রগতি পাশাপাশি রাখুন, দেখবেন পুঁজিবাদী ব্যবস্থা আর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পার্থক্যটা কোথায়।

পুঁজিবাদী বিশ্ব যে এখনো টিকে আছে, সেটাও কিন্তু সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের কারণেই। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ছাড় দিয়েছে। তথাকথিত কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা নিয়ে এসেছে।

প্রশ্ন: আমাদের আর্থসামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মূল সংকট কোথায়। বামপন্থীরা সে সংকট কতটা অনুধাবন করতে পেরেছে?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: মূল সংকট শ্রেণিবৈষম্যের। বামপন্থীরা সেটা অনুধাবন করতে পারেনি, এটা সত্য নয়। কিন্তু বৈষম্য কীভাবে দূর করতে হবে, সেই পথটা ঠিক করতে পারেনি। ব্রিটিশ আমলে যেমন পাকিস্তান আমলেও তেমনি মূল সমস্যাটি ছিল ওই শ্রেণিবৈষম্যেরই, কিন্তু সমস্যাটি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল অমীমাংসিত জাতি সমস্যার কারণে। বামপন্থীদের বড় অংশটি জাতি সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতি সমস্যার মীমাংসার দরকার ছিল শ্রেণি সমস্যার মীমাংসার প্রয়োজনেই। জাতি সমস্যার সমাধানের কাজটা জাতীয়তাবাদীরা নিয়ে নিয়েছে, সমাজতন্ত্রীরা পিছিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ যদি সমাজতন্ত্রীদের নেতৃত্বে স্বাধীন হতো, তাহলে এখনো যে সংকট বিদ্যমান, সেটার অবসান ঘটত।

প্রশ্ন: অনেক বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দেশ নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা করেছে, সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো কেন সেটি পারল না?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: এটা কিন্তু বুর্জোয়াদের কথা। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দেশে মানবাধিকারের কী দশা, তা বুঝতে হলে আমেরিকার দিকে তাকিয়ে দেখুন। পুঁজিবাদীদের মানবাধিকার টাকাওয়ালা পাঁচজনের, পঁচানব্বই জনকে শোষণ ও বঞ্চিত করার ওপর যার ভিত্তি।

প্রশ্ন: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির মধ্যে কোনো আদর্শগত ফারাক আছে বলে মনে করেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: ফারাক প্রচারে আছে, বাস্তবে নেই। উভয় দলই পুঁজিবাদে দী‌ক্ষিত। তারা শোষণ ও লুণ্ঠনের ক্ষমতা চায়, সাধারণ মানুষের মঙ্গল চায় না।

প্রশ্ন: বামপন্থীরা রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলের কথা বলে আসছে। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনে তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারল না কেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:  না-পারার একটা কারণ পুঁজিবাদীদের বিরোধিতা। বিশেষ করে, পুঁজিবাদ-নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার।ওদিকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করছে। পুঁজিবাদীদের ভেতর দ্বন্দ্ব আছে, কিন্তু শোষণমূলক সমাজব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে তারা ঐক্যবদ্ধ। দ্বিতীয় কারণ জ্ঞানচর্চার অভাব। জ্ঞানের অভাবই সর্ব‌ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণ; সমাজ পরিবর্তনকামীদের জন্য এই দুর্বলতা আত্মঘাতী।

প্রশ্ন: আমাদের দেশে রাজনীতি ও সংস্কৃতি তথা শিল্প-সাহিত্য ও সুকুমারবৃত্তির মেলবন্ধন না হওয়ার কারণ কী? এ ব্যাপারে একশ্রেণির বামপন্থীর উদাসীনতা কি পীড়াদায়ক নয়?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মেলবন্ধন চায় না। বামপন্থীরা সংস্কৃতিচর্চার বিষয়ে উদাসীন, এটা মোটেই সত্য নয়। বস্তুত, কোনো বামপন্থীই বামপন্থী নন, যদি তিনি সংস্কৃতির মূল্য না বোঝেন। এ দেশে সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে যত আক্রমণ এসেছে, তার বিরুদ্ধে বামপন্থীরাই সবার আগে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি হেফাজতিদের দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তকে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বামপন্থীরাই করছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে বামপন্থী দলগুলোতে লেনিনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ভালো, না মন্দ?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: মতাদর্শগত বিরোধটাই প্রধান। বামপন্থী দলে লেনিনের সংখ্যা বাড়ছে, এটা যদি সত্য হয়, তবে তো খুবই ভালো খবর। লেনিন তো অসাধারণ জ্ঞানী এবং যথার্থ বিপ্লবী ছিলেন। আর সাধারণভাবেও বলা চলে, লেনিন হওয়া অনেক ভালো হিটলার হওয়ার চেয়ে, এমনকি মহাত্মা গান্ধী হওয়ার চেয়েও। সুকান্ত লিখেছেন, বিপ্লব স্পর্ধিত বুকে মনে হয় আমিই লেনিন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে শিক্ষার অধোগতির শুরুটা কোথায়, প্রতিকার কী?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: অধোগতির শুরুটা তিন ধারায় শিক্ষা বলবৎ রাখা থেকে। এই তিন ধারা পুঁজিবাদের অবদান। পুঁজিবাদ আরও একটা ভয়ংকর কাজ করছে, সেটা হলো শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করা। প্রতিকার হচ্ছে পুঁজিবাদকে থামানো। কাজটা সহজ নয়, কিন্তু এর কোনো বিকল্প নেই। সংস্কার দরকার, কিন্তু সংস্কারকে যুক্ত করতে হবে পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা বদলানোর লক্ষ্যের সঙ্গে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে চিন্তা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় কী?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: প্রধান অন্তরায় জ্ঞানের চর্চায় ও প্রকাশে আগ্রহের অভাব। আজ থেকে ৬০ বছর আগে সমকাল নামে যে পত্রিকাটি বের হয়, তার সম্পাদক সিকান্‌দার আবু জাফর লিখেছিলেন যে লোকে ভয় দেখিয়েছিল পত্রিকা টিকবে না; কারণ, পাঠক নেই, বিজ্ঞাপন নেই; পরে দেখেন যে বড় সমস্যা আসলে ভালো লেখার অভাব। আজও সেটা সত্য। সমকাল-এর জন্য আরেকটি বিপদ ছিল—রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ। স্বাধীন বাংলাদেশে মতপ্রকাশের যে নির্ভয় পরিবেশ আছে, এমনটা বলা যাবে না। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন স্বাধীনতার অন্তরায়। জঙ্গি-মৌলবাদী তৎপরতাও ভীতিকর। জ্ঞানের স্বাধীন প্রকাশের জন্য এই পরিবেশ অনুকূল নয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের উত্থানের কারণ কী? এ ব্যাপারে শাসকগোষ্ঠীর উদ্বেগকে কি আপনি যথার্থ বলে মনে করেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের উত্থানের কারণ বিদ্যমান রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় বেকারত্ব বেড়েছে, অভাব ঘটেছে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার, প্রবল হয়ে উঠেছে অগণতান্ত্রিকতা। এসব জিনিস হতাশা ও মাদকাসক্তির জন্ম দেয়। জঙ্গিবাদ-মৌলবাদও একধরনের নেশা। শাসকগোষ্ঠী যদি এ নিয়ে সত্যি সত্যি উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে তাদের কর্তব্য হবে সামাজিক লালনভূমিকে ধ্বংস করা।

প্রশ্ন: সম্প্রতি প্রথম আলোয় তরুণদের নিয়ে যে জরিপ রিপোর্ট বের হয়েছে, তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। এর কারণ কী?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: তরুণেরা রাজনীতিতে আসুক, দেশের শাসকশ্রেণি এটা চায় না। পরিবর্তনকামী তারুণ্যকে তারা ভীষণ ভয় পায়। এই ভীতির একটা প্রত্যক্ষ প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদের অনুপস্থিতি।

প্রশ্ন: মেয়াদ শেষে ২০১৮ সালের শেষে বা ২০১৯ সালের প্রথমে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা রকম তৎপরতা চলছে। আপনি কীভাবে দেখছেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: তৎপরতাটার পেছনে আছে ক্ষমতার লোভ। জনগণের জন্য মূল সমস্যাটা বিদ্যমান ব্যবস্থা। তারা ভোট দিতে চাইবে, চাইলেও পারবে কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। তবে ক্ষমতায় যারাই আসুক, জনগণের ভাগ্য যে বদলাবে না, সেটা নিশ্চিত।

প্রশ্ন: ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন আইন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যে স্বাধীনতা দিয়েছিল, তার অপব্যবহারই বেশি হয়েছে। এ জন্য শিক্ষকেরা কতটা দায়ী?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: শিক্ষকদের একাংশ যে দায়ী, সেটা সত্য। এরা বৈষয়িক সুবিধা চায়। জ্ঞানের চর্চায় সে সুবিধা পাওয়া সহজ নয়। দলীয় আনুগত্যে প্রাপ্তিটা সহজ হয়ে পড়ে। অন্য শিক্ষকেরা দেখেন দলে না ভিড়লে উন্নতি হবে না, উল্টো বিপদ হতে পারে; তাই তাঁরা দলে যান বা দলে আছেন, এমন ভাব করেন। এই বিভাজন এখন সব পেশাতেই। কিন্তু শিক্ষকদের ভেতর দলীয় বিভাজন অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা, সমাজ তাঁদের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখে এবং সমাজে তাঁদের প্রভাব খুবই ব্যাপক ও গভীর।

প্রশ্ন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:  আপনাকেও ধন্যবাদ।

সূত্র: প্রথম আলো ।