পাকিস্তানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে শরিফ পরিবারই

নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দলের মধ্যে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার লক্ষ্যে ছোট ভাই শাহবাজ শরিফকেই উত্তরসূরি করার যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেটাই গতকাল শনিবার দলীয় সভায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসির মনোনয়ন ছিল কিছুটা চমকপূর্ণ। কারণ, অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে কয়েকজন বিবেচনায় ছিলেন, তাঁদের বাদ দিয়ে দলের বিশ্বস্ত ও রাজনীতিতে স্বল্পপরিচিত আব্বাসিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

৩৪২ আসনের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নওয়াজের দল পিএমএল-এন এবং তার শরিকদের আসনসংখ্যা ২০৯। ফলে শাহবাজ শরিফই যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করার ৪৫ দিনের সময়টাতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বটা পালন করবেন শহিদ খাকান আব্বাসি।

পিএমএল-এন শাহবাজ শরিফকে নিজেদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মেহমুদ কুরেশি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোতে (এনএবি) যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন আছে, তাঁকে মনোনীত করে দেশ আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে। উঁচু পদে মনোনীত করার সময় পরিবারের বাইরের কাউকে বেছে নেওয়ার মতো পরিপক্বতা পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের কবে হবে? দলটিতে এত সদস্য আছেন, তাঁর চেয়ে যোগ্য কাউকে কি ওই পদে খুঁজে পাওয়া যায়নি?

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এক দিন পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন নওয়াজ শরিফ। মুসলিম লিগের সংসদীয় দলের বৈঠকে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদে আমার অযোগ্যতা যে দুর্নীতির জন্য নয়, সে জন্য আমি গর্বিত। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি। আমি অন্যায় করে থাকলে নিজেকে অপরাধী ভাবতাম।’ তিনি সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দেন, শুধু একটি পরিবারকে নয়।