তারেক পলাতক ও নির্বাসন জীবন যাপন করছেন: মতিয়া

নিউজ ডেস্ক: কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণের সম্পদ লুটপাট করে খেয়ে এখন স্বেচ্ছায় পলাতক ও নির্বাসন জীবন যাপন করছেন।

শুক্রবার সকালে নকলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢেউটিন, বেঞ্চ এবং বিভিন্ন অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যদান কালে মন্ত্রী একথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, পারিবারিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার বলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সন্তানেরা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও টিউলিপ সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা আজ বিশ্ব জয়ী। অপর পক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ধর্মের নামে বেশরীয়তি কাজ করে মদ জুয়া ও নৃত্যকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

এসময় আওয়ামী লীগ সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য সবাইকে শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকতে হবে, নৌকার সঙ্গে থাকতে হবে। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে দক্ষ মানব সম্পদের বিশেষ প্রয়োজন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর সুশিক্ষায় গড়ে ওঠা নাগরিকই সততার সঙ্গে, নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারবেন। তাই টিআর, কাবিখার টাকা যাতে অপচয় না হয়, সে জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। নকলা নালিতাবাড়ীতে ইতি মধ্যেই দুটি সরকারী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে এবং আরো দুটি সরকারী কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা দেশের অন্যতম প্রধান শত্রু, এরা দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করছে উল্ল্যেখ করে মন্ত্রী বলেন, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে কোনো ব্যক্তির কাছে ২০০টির বেশি ইয়াবা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হবে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য নদী, খাল, বিল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্যও তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী নকলা উপজেলার ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৯০ জোড়া বেঞ্চ ও ১১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১১ বান্ডিল ঢেউটিনসহ ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল ইসলাম, পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গনি, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব আলী চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব কুমার সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, খামার বাড়ি শেরপুরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।