ময়মনসিংহে দুই হত্যা মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন

নিউজ ডেস্ক: ময়মনসিংহে ফুলপুরে তোফাজ্জল হত্যা মামলায় চারজন এবং নান্দাইলে সাত্তার হত্যা মামলা চারজনসহ দুই হত্যা মামলায় মোট আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত এর বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির ফুলপুরের তোফাজ্জল হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন প্রদান করেছে। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, আব্দুল মোতালেব, আব্দুল হারিজ, চানু ও শহীদ।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ৭ জুলাই রাত ৮টায় ফুলপুরের ঘোষগাঁও গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে তোফাজ্জলকে প্রেমঘঠিত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ডেকে নিয়ে আসামিরা খুন করে এবং লাশ গুম করে ফেলে। পরে এ ব্যাপারে ফুলপুর থানায় তোফাজ্জলের পিতা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এদিকে এ হত্যা মামলায় আসামিরা ১৯৯৯ সালের ১৬ মে খালাস পায়।

পরে মামলার বাদী এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ক্রিমিনাল রিভিশন দায়ের করলে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে প্রেরণ করে। মামলার পূনঃতদন্ত ও সাক্ষ্য শেষে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত এর বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির আসামীদের যাবজ্জীবন এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে এ পি পি সঞ্জীব সরকার ও আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট জহিরুল হক মামলাটি পরিচালনা করেন। প্রসঙ্গত, এ মামলার আসামি মীর আবুল কাশেম মারা যায়।

অপরদিকে একইদিনে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সাত্তার হত্যা মামলার রায়ে জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক শেখ আব্দুল আহাদ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হচ্ছেন- নান্দাইলের হাদিস মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, হানিফা ও হাবিবুর রহমান। সেইসাথে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৭ মে জমি ও পুকুর নিয়ে বিবাদের জেরে নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণ কয়রাতি গ্রামের আব্দুস সাত্তারকে আসামিরা কুড়াল, দা ও বল্লম দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ব্যাপারে নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন এবং প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।