মির্জাগঞ্জে একতা কো-অপারেটিভে রাজ্জাকের দূর্নীতি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলাধীন মির্জাগঞ্জ একতা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে প্রকাশ সমিতির তহবিল আত্মাসাৎ, সুদের ব্যবসা ও ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ হরিলুটের মত অপকর্মে লিপ্ত থেকে সমিতিটিকে তিনি নিজের পকেটস্ত করে রেখেছেন। নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য তিনি সমবায় বিভাগের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরকে পকেটে রেখেছেন। নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে তিনি সবকিছু লুটেপুটে খাচ্ছেন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগস্ট মাসের ৮ তারিখে।

সমিতির নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক আর সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারবেন না। কাজেই নিজের অপকর্ম ও দূর্নীতি জালিয়াতি ঢাকতে মনগড়া একটি কমিটি বানানোর জন্য চেষ্টা করছেন। নিজের ইচ্ছেমতো কমিটি বানানোর লক্ষ্যে তিনি সমিতির নিয়ম ভঙ্গ করে নিজেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন এবং তার অনুগত মোঃ ইব্রাহিম ও মোঃ রফিকুল ইসলামকে সদস্য বানিয়েছেন।

তিনি তার স্ত্রী ইসরাত জাহান’কে সভাপতি বানানোর জন্য যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। উল্লেখ্য তার স্ত্রী ইসরাত জাহান রানীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, সরকারী কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী এ ধরনের কোন সমাবয় সমিতির কর্মকর্তা নির্বাচিত হবার বিধান না থাকলেও রাজ্জাক তার স্ত্রীকে সভাপতি বানানোর জন্য পাঁয়তারা করছেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শিকদার মির্জাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি আবেদন করলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমবায় বিভাগকে নির্দেশ দেন কিন্তু সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আব্দুর রাজ্জাকের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দেয়। বলা বাহুল্য সমবায় বিভাগের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাথে রাজ্জাকের আগে থেকে গোপন যোগাযোগ ছিল ফলে তারা আবারো পকেট ভারী করার সুযোগ পায়।

আব্দুর রাজ্জাক এখন নিজের সকল অপকর্ম ধামাচাপা দেবার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন এবং নিজের স্ত্রীকে সভাপতি বানানোর ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছেন।
বলা বাহুল্য আব্দুর রাজ্জাকরা তিনি ভাই, তিনটি সমবায় সমিতির উধ্বর্তন কর্মকর্তা। তাদের মূল ব্যবসা হচ্ছে সুদের ব্যবসা। সমবায় সমিতির কর্মকর্তা পদ ভাগিয়ে নিয়ে সমিতির তহবিলের টাকা ব্যবসায়ীদের কাছে উচ্চ সুদে বিনিয়োগ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন তারা কোটিপতি।

এলাকায় এরা সুদী ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। আব্দুর রাজ্জাকের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সমিতির সদস্যরা ফুঁসে ওঠতে শুরু করেছে। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।