ইয়াবা পাচার রোধে কঠোর আইন করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  ইয়াবা ব্যবহারকারী ও পাচারকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘ইয়াবার ভয়াবহতা রোধে সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এ জন্য ১৯৯০ সালের মাদকবিরোধী আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হবে।’

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

আগামীকাল বুধবার পালিত হবে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৭। তবে জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৬ জুন এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। তবে ওইদিন ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় সরকার এটি পরিবর্তন করে এ বছরের জন্য ২৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দিবস উপলক্ষে ওইদিন সকালে র‌্যালি, মাদকবিরোধী টক শো, মোবাইলে ম্যাসেজ, সড়কে আলোকসজ্জাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবা মাদকদ্রব্যের মধ্যে শীর্ষে। এটি এত ছোট যা সহজে পরিবহনযোগ্য এবং এটি হাত বদল হলেই মুনাফা বাড়ে। এ দুই কারণে ইয়াবা শহর ছেড়ে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ইয়াবার বিস্তাররোধে মিয়ানমার-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে স্থায়ীভাবে মাছ ধরার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। নাফ নদী ছোট হওয়ায় মাছ ধরার নৌকায় বা ছোট ছোট নৌকায় মিয়ানমারে গিয়ে ইয়াবা বহন করে নিয়ে আসা সহজ। তাই সাময়িকভাবে ৬ মাসের জন্য নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলেদের পুনর্বাসন করবে সরকার। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও আমাদের কথাবার্তা হচ্ছে। আমরা তাদের নাফ নদীর পাড় থেকে ইয়াবা তৈরির কারখানা সরিয়ে নিতে বলেছি ।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমরা চাই না সমাজে আর কোনও ঐশী তৈরি হোক। মাদকের করুণ পরিণতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐশী। এ কারণে এ বছরের মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৭ এর প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগে শুনুন… শিশু ও যুবাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়াই তাদের নিরাপদ বেড়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ।

দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতিকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহামেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।