নবীনগরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু মালিক গ্রেপ্তার

নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভূয়া গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের হাতে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত¡া এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।নিহত প্রসুতির নাম শরীফা আক্তার,স্বামী মো: সেলিম মিয়া,বাাড়ি পৌর এলাকার মাঝিকাড়া গ্রামে। তার মৃত্যুর খবর শুনে বিক্ষুব্ধ আত্মীয়স্বজন ওই হাসপাতালে হামলা চালায়। ঘটনার পরই ভূয়া চিকিৎসক মো: শফিকুল ইসক উল ইসলাম হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহতের স্বামী বাদী হয়ে ওই কথিত ডাক্তার ও হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার (২০/০৭) রাতে থানায় খুনের মামলা করেন। পুলিশ হাসপাতালের মালিক মো: ফরিদ আহামেদ (৫৫) কো গ্রেপ্তার করলেও ওই ভূয়া চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।এর আগেও এ রকম ভূয়া ডাক্তার দিয়ে সিজার করায় অনেক অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে, সেসব ঘটনা কে টাকা পয়সা দিয়ে ধামাচাপা তেওয়া হয়। জানা যায়, ১০ মাসের অন্তসত্তা ওই প্রসূতি বৃহস্পতিবার সকালে প্রসব বেথা উঠলে তাকে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে আসে।

কর্তব্যরত ডাক্তার মো: শফিক উল ইসলাম নিজেকে গাইনি বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে ওই হাসপাতালের মালিকের সাথে পরামর্শ করে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই সিজারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রোগীর আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে কিছু কাগজপত্রে স্বাক্ষর কওে নেয়। পরে ওটিতে নিয়ে ডাক্তার ২ঘন্টা শরীফার অপারেশন করে। কিন্তু রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ৫ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। তারপরও তার অবস্থার উন্নতি না হলে বেগতিক দেখে কুমিল্লা হাসপাতালে রেফার করে। রেশি রক্তক্ষরণের ফলে কুমিল্লা নেওয়ার পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় প্রসূতির মৃত্যুর খবরে তার আত্মীয়স্বজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওই হাসপাতালে হামলা চালায়।

প্রসূতির আত্মীয় আরজুদা বেগম রোজি বলেন, সার্জারি ডাক্তার না হয়েও ভূয়া পরিচয় দিয়ে ইচ্ছে করে তাকে মেরে ফেলেছে।আমার বলার পরও সে রোগীকে সময়তো রেফার করেনি, মারা যাওয়ার পর রেফার করে।আমরা এর সঠিক বিচার চাই। হাসপাতালের মালিক ধৃত ফরিদ আহামেদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ভর্তিও সময় রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো, সকল নিয়মনীতির মাধ্যমেই সিজার করানো হয়।

একের পর এক এসব মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগনের দাবি, এই প্রাইভেট হাসপাতালটিকে যেন মনিটর করা হয়,হাসপাতালটি সরকারি নিয়ম নিতির মধ্যে চলছে কিনা এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রাহণ হোক।

এব্যাপারে নবীনগর থানার ওসি অসলাম সিকদার বলেন,নিহতের স্বামী মামলা করায় ওই হাসপাতালের মালিক ফরিদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ওই ভূয়া ডাক্তারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য যে, ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু খবরে ও ভুয়া ডাক্তারের শাস্তির দাবিতে মানব সেবা সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে নবীনগর থানা সংগ্নে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।