জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

‘‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে আমি প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। দিবসটি উপলক্ষে জনপ্রশাসনে উদ্ভাবনী ধারণাকে কাজে লাগিয়ে নাগরিক সেবা সহজীকরণের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জনপ্রশাসন পদক-২০১৭’ প্রদান করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। আমি পদকপ্রাপ্তদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সিভিল সার্ভেন্টগণ সরকারি কার্যসম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। সংবিধানের আলোকে সিভিল সার্ভিস মূলত বিবিধ আইন-কানুন, বিধি-বিধান, পরিপত্র, আদেশ-নিষেধ দ্বারা পরিচালিত। ব্রিটিশ আমলের উত্তরাধিকার বতর্মান সিভিল সার্ভিসে যুগের চাহিদা অনুযায়ী গুণগত অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসন এখন উন্নয়নমুখী, জনকল্যাণমুখী। এখন আর নিজেদেরকে জনগণের শাসক ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

মানুষ সিভিল সার্ভেন্টদের কাছে সুশাসন ও সেবা আশা করে। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে নাগরিক সেবা সহজ, সুলভ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। যার কাছে যেটুকু সেবা প্রদানের সুযোগ রয়েছে সেটুকু সঠিক ও সর্বোত্তমভাবে নাগরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রদান করাই সিভিল সার্ভেন্টদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।

সরকার সিভিল সার্ভিসকে জনবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী করতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, যথাসময়ে পদোন্নতি, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণ, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ জনপ্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধিসহ জনমুখী প্রশাসন সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
সরকার দেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে ইতোমধ্যে রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেছে।

এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে সরকারের কার্যক্রম ও অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহ যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য একটি দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ও কার্যকর জনপ্রশাসন প্রয়োজন। বর্তমানে নাগরিক সেবায় উদ্ভাবনী সংস্কৃতি চালু হয়েছে। উপজেলা, জেলা, বিভাগ, অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবনী টিমসমূহের নিকট থেকে প্রাপ্ত উদ্ভাবনী ধারণা ও উদ্যোগ দৈনন্দিন কার্যাবলীসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি অনুসরণীয় উদ্ভাবনী সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে সেবা আরও সহজ ও উন্নয়নমুখী হবে বলে আমার বিশ্বাস। ভালো কাজের স্বীকৃতি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করে। আমি আশা করি পদকপ্রাপ্তদের পথ অনুসরণ করে অন্যান্য কর্মচারীরাও জনকল্যাণে এ ধরনের উদ্ভাবনী কাজে এগিয়ে আসবেন এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে অবদান রাখবেন।

আমি ‘জনপ্রশাসন পদক-২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’