শহীদ স্মরণে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপন করবে নির্মূল কমিটি

নিউজ ডেস্ক:  একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার শিকার ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতি চির সবুজ রাখার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ প্রতিহত করতে সারা দেশে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপনের ঘোষণা দিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

আগামী ২৫ মার্চ ৪৬ তম গণহত্যা দিবস থেকে এই বৃক্ষরোপন কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়াও স্কুল ও কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে মৌলবাদি সাম্প্রদায়িক পাঠ্যসূচি বাতিলসহ আরও ১২ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

এসব দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

এ সময় গত শুক্রবার সংগঠনের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ ও ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের নাম প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কানাডার নর্থ আমেরিকান জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাটর্নি উইলিয়াম স্লোন, মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের সমাজর্কমী জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ভারতের মানবাধিকার কর্মী কবি গীতেশ শর্মা, নেপালের সাংবাদিক যুবনাথ লামসাল, সুইডেনের মানবাধিকার কর্মী এরিক হেদলুন্দ এবং সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, শহীদ জায়া শ্যমলী নাসরিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, সহ সাধারণ সম্পাদক শওকত বাঙালি, ডা. নুজহাত চৌধুরী, আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অভিনেত্রী শমী কায়সার প্রমুখ।

সংগঠনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে যুদ্ধাপরাধী বিচার অব্যাহত রাখা, যুদ্ধাপরাধী দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলন জোরদার করাসহ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার কবির বলেন, বিশ্বের প্রত্যেক দেশেই গণহত্যা দিবস আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে জঘন্যতম গণহত্যা বাংলাদেশে হলেও তার স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। জাতিসংঘে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়ার পর তারা বলেছে, তোমার দেশেই তো এর স্বীকৃতি হয়নি।

এ প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে ২৫ মার্চ দেশে গণহত্যা দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর জন্য সরকারের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।