বর্ষা উৎসবে প্রকৃতি সুরক্ষার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক: প্রকৃতি সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী গান, কবিতা আর কথামালায় পালন করেছে বর্ষা উৎসব। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এই উৎসবে এসে অপরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা আর মানবসৃষ্ট দুর্যোগে নিজেদের দায় মেনে নিয়ে নগরবাসী প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় করণীয় সব কিছু করার অঙ্গীকার করলেন।

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রীর রাগ ‘কাদেরিয়া’ পরিবেশনায় শুরু হয় বর্ষা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ‘মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দনের একদল শিশুশিল্পী। আবৃত্তিশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল আবৃত্তি করেন শামসুর রাহমানের ‘হঠাৎ বৃষ্টি এল’। সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর দলীয় পরিবেশনা ‘এসো শ্যামল সুন্দর’-এর পর ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যজন।

এরপর বহ্নিশিখার শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘মেঘেরও ডম্বুরো বাজে’। ‘পাতা ঝরা বৃষ্টি বলো কেন এনেছো’ গানটির সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যমঞ্চ। ‘রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে’ গানের সঙ্গে আরেকটি নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাক্ষের নৃত্যশিল্পীরা।

দলীয় সঙ্গীতপর্বে পঞ্চভাস্কর পরিবেশন করে ‘রিমঝিম ঘন ঘনরে বরষে’, সমস্বর ‘এসো নীপবনে ছায়াবিথীতলে’।

জয় গোস্বামীর ‘মেঘবালিকার জন্য রূপকথা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী। আবু বকর সিদ্দিক শোনান উকিল মুন্সীর গান ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানিরে’, মামুন জাহিদ খান শোনান ‘বরষা তুমি অমন ভাবে ঝরো না, সঞ্জয় কবিরাজ ‘পরদেশী মেঘ’ ও আঞ্জুমান ফেরদৌস কাকলী পরিবেশন করেন ডি এল রায়ের ‘আমরা মলয় বাতাসে’।

এই আয়োজনে আরও একক গান পরিবেশন করেন মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, শ্যামা রহমান, মাহজাবীন রহমান শাওলী, শমসের, নবনীতা জাইদ চৌধুরী অনন্যা, রত্না সরকার, শ্রাবণী গুহ রায়।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্বেই সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড় ধসে শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর আসে। হরিষে নামল বিষাদ। মানজার চৌধুরী সুইটের সঞ্চালনায় ‘বর্ষা কথন’ পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কণ্ঠেও সেই সুর।

প্রকৃতি সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘আমরা আশা করব, মানুষ প্রকৃতিকে ভালোবেসে প্রকৃতি সুরক্ষা, ঋতুবৈচিত্র্য রক্ষায় যা কিছু প্রয়োজনীয়, করণীয় সবকিছু করবে। প্রকৃতির ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন বন্ধে তারা আরও সচেতন হবেন।’ ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশে নাগরিকরা বর্ষা উৎসবে যোগ দিয়ে ‘বর্ষার মতো সজীব আর উদার’ হয়ে উঠবেন বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।’

অনুষ্ঠান শেষে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বনজ, ফলজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।