কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ

নিউজ ডেস্ক: কোরবানি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কিছু উৎসর্গ করা কিংবা বিসর্জন দেওয়া। যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। আল্লাহর ক্ষমা লাভের উদ্দেশ্যেই মানুষ কোরবানি করে। কোরবানি হলো অত্যন্ত একটি পবিত্র ও কল্যাণময় বিষয়। কোরবানি করা একটি ইবাদত। ইহা আদায় করা ওয়াজিব।

কোরবানির পশুর রক্ত মাংস কোনোটিই আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না। আল্লাহর নিকট বান্দার তাকওয়া পৌঁছায়। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকটি ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে বান্দার তাকওয়া দেখে থাকেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর নিকট এদের রক্ত কিংবা মাংস কিছুই পৌঁছায় না; বরং তার নিকট তোমাদের তাকওয়া পৌঁছায়।’ (সূরা হজ:৩৭)।

কোরবানির সময় এলে দেখা যায়, অধিক মুনাফার লাভের আশায় পশুর গায়ে ইনজেকশন পুশ করে পশুকে মোটাতাজা করা হয়। পশুকে ঘরে আবদ্ধ রেখে অতিরিক্ত খাবার দেওয়া হয়। পশুকে শুইতে দেওয়া হয় না। পশুকে সারাক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পশুকে বিশ্রাম দেওয়া হয় না। পশুকে খড়-কুটা, ঘাস, খৈল, ভুষির পাশাপাশি নানা ধরনের কেমিক্যাল মিশ্রিত খাবার সরবরাহ করা হয়। অল্প সময়ে কৃত্রিম উপায়ে পশু মোটাতাজা করার ফলে অধিকাংশ পশুই অসুস্থ থাকে।

যার ফলে কোরবানি পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, এসব পশুর মাংস খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মাঝে কিছু আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ পাক ও আখিরাতের উপর ঈমান এনেছি, কিন্তু এরা মুমিন নয়। এরা আল্লাহ পাক ও তাঁর বান্দাদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে, যদিও তাদের অন্য কাউকে নয়, নিজেদেরই ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে, যদিও তাদের কোনো প্রকারের চৈতন্য নেই।’ (সূরা বাকারা: ৮-৯)।

যারা কৃত্রিম উপায়ে কোরবানির পশু মোটাতাজা করে তারা সকলে কিয়ামতের মাঠে ধোঁকাদানকারী অর্থাৎ শয়তানের দলভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। যে ব্যক্তি অপর একজনকে ধোঁকা দিল সে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলো। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের জন্য আল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে, আর শয়তান যা প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ব্যতীত আর কিছুই নয়। এরাই হচ্ছে সেসব ব্যক্তি; যাদের আবাসস্থল হচ্ছে দোযখ, যা থেকে মুক্তির কোনো পন্থাই তারা পাবে না।’ (সূরা আন-নিসা: ১২০-১২১)।

কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে পশুর প্রতি অবশ্যই সদাচরণ করতে হবে। পশুর যেন কোনোরূপ কষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হযরত আনাস (রা) বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন, সমগ্র সৃষ্টিই আল্লাহ তায়ালার পরিবার সদৃশ; সুতরাং সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর নিকট সে-ই সর্বাধিক প্রিয়, যে আল্লাহর পরিবারের সাথে সদাচরণ প্রদর্শন করে।’ (মেশকাত:৪৭৮১)।

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা পশুর মুখ-মণ্ডলে আঘাত করো না; এবং পশুর গায়ে দাগ দিও না।’ (মেশকাত:৩৯০০)। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,‘ জমিনের বুকে বিচরণশীল যে কোনো জন্তু কিংবা বাতাসের বুকে নিজ ডানা দুটি দিয়ে উড়ে চলা যে কোনো পাখিই- এগুলো তোমাদের মতোই।’ (সূরা আনআম:৩৮)। সুতরাং যিনি কোরবানির পশু লালন-পালন করে থাকেন এবং যিনি কোরবানি আদায় করবেন উভয়কেই কোরবানির পশুর প্রতি সদাচরণ করতে হবে।