রূপালী ব্যাংকের তিন সিবিএ নেতা বহিষ্কার

নিউজ ডেস্ক: কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে রূপালী ব্যাংকের তিন সিবিএ নেতাকে বহিষ্কারসহ ৮ জনকে চূড়ান্ত শাস্তি দিয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বুধবার ব্যাংটির প্রশাসন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। রূপালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর স্থানীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে রূপালী ব্যাংকের সিবিএ নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ব্যাংকটি।

যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তারা হলেন রূপালী ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, সেক্রেটারি মো. কাবিল হোসেন কাজী ও কেয়ারটেকার মো. আরমান মোল্লা। এই তিনজনকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে ড্রাইভার মো. আবুল কালাম আজাদকে। আর ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে কেয়ারটেকার মো. আনোয়ার হোসেন, ছাব্বির আহমেদ ভুঁইয়া ও মনিরুল ইসলামসহ অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (গ্রেড-১) মো. আহসান হাবিবকে।

জানা গেছে, ২০০৩ সালের পর এই প্রথম কোনো সিবিএ নেতা শাস্তির মুখে পড়েছেন। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ জনকে চাকুরিচ্যুত করেছিলেন তৎকালীন গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ। সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘটনায় রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেছেন, উচ্ছৃঙ্খল সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পুরো আর্থিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যারা ইউনিয়ন করার নামে আর্থিকখাত-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত তারা একটা কঠোর বার্তা পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আর্থিক খাতের জন্য এটা উদাহরণ হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য আমি ব্যাংকের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই। বিশেষ করে ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহী আতাউর রহমান প্রধান যেভাবে সাহসিকতার সঙ্গে বিষয়টা সমাধান করেছেন, এটা প্রশংসনীয়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সকালে রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. নূরুজ্জামান, উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শওকত আলী খান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জসিম উদ্দিন সরকারের সঙ্গে গুরুতর অসদাচরণ ও অশালীন আচরণ করে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আলোচিত এই সিবিএ নেতারা।

এর প্রেক্ষিতে ওই দিনই পাঁচজনকে (সংস্থাপন ও কল্যাণ বিভাগের অফিস সহকারী মো. কাবিল হোসেন কাজী, একই বিভাগের ড্রাইভার মো. আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার গ্রেড-১ মো. আহসন হাবিব এবং কাপ্তান বাজার শাখার অফিস সহকারী মো. আরমান মোল্লা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সিবিএ সভাপতি মতিঝিল কর্পোরেট শাখার জুনিয়র অফিসার খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, ভিজিলেন্স ও ইন্টেলিজেন্স বিভাগের অফিস সহকারী মো. মনিরুল ইসলাম ও শিল্পঋণ বিভাগের অফিস সহকারী মো. ছাব্বির আহমেদ ভূইয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। পরে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সিবিএ সেক্রেটারি কাবিল হোসেন কাজী শাস্তির বিষয়ে বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী সব সিবিএ পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ২০১১ সালের রূপালী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই শ্রম আইনের সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই।

রূপালী ব্যাংকের শৃঙ্খলা কমিটির এক সদস্য বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং সবধরনের নীতিমালা অনুযায়ী সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগেও একাধিকবার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের সতর্কও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

উল্লেখ্য, রূপালী ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে এর আগেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের মারধর এবং সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।