যুক্তরাষ্ট্রে এসডিজি বাস্তবায়ন আলোচনায় পরিকল্পনা মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে চলতি ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম’-এ ‘টেকসই উন্নয়ন’ বিষয়ক সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার ইকোসকের উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এলডিসি’র দেশগুলোর পক্ষে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ এলডিসি’র দেশসমূহের বৈশ্বিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এইচএলপিএফ-এ অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, “দারিদ্র্য নির্মূলের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এলডিসি’র দেশসমূহ জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনী, প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করছে। আমরা সকল জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, মানসম্মত শিক্ষা, তথ্য ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনের শাসন ও বেসরকারি খাতের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির উপর জোর দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ সকল পদক্ষেপ সত্ত্বেও এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার বিরাট ঘাটতি আমাদের প্রচেষ্টাকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। তাই উদার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এলডিসি এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর জন্য সম্পদের যথাযথ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান রাখছি।”

উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা যেন স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে আর্থিক, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ টেকসই এবং সময়োপযোগী সহযোগিতা দেন।”

মন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশসমূহ অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং এখনও এর ৪৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ চরমদারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।

এলডিসি’র দেশগুলোতে ওডিএ, এফডিআই এবং বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এক্ষত্রে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

এলডিসি’র দেশগুলোতে এসডিজি’র অভিষ্ট ও লক্ষ্যসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে বলেও মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী, এইচএলপিএফ-এর এবারের প্রতিপাদ্য, “দারিদ্র্য নিমূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা”-কে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের উপর বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়টি সুরাহার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

জেনারেল ডিবেটে অংশগ্রহণ ছাড়াও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত আরও বেশ কয়েকটি এসডিজি বিষয়ক সাইড ইভেন্টে অংশ নেয়।

দিনব্যাপী এ সকল কর্মসূচিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনোমিকস ডিভিশনের সদস্য শামসুল আলম ও পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল করিম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জিআইইউ-এর মহাপরিচালক আব্দুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।