পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং

চাটমোহর প্রতিনিধি: পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন চাটমোহরসহ আশপাশের ৬টি উপজেলায় গত দুই সপ্তাহ যাবৎ বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে গ্রাম-গঞ্জে ২৪ ঘন্টায় মাত্র ৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে না। সাথে তীব্র ভ্যাপসা গরমে মানুষসহ প্রানিকুল চরম অস্বস্থিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে দুই তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এমনটাই বলছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

তথ্য দেখা গেছে, গত রমজান মাসের পর পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন প্রায় সকল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আশানুরুপ সন্তাষজনক ছিল। সম্প্রতি গত দুই সপ্তাহ যাবৎ হঠাৎ কোন কারণ ব্যতিরেকে আবারও বিদ্যুৎ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বর্তমান বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এর তীব্রতা এতোটাই বেশি যেখানে গড়ে ২৪ ঘন্টায় ৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রহকেরা। এরুপ পরিস্থিতিতে হালকা বৃষ্টিপাতের পরে ভ্যাপসা গরমে জনমনে নাভিস্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, বিদ্যুৎতের লোডশেডিং দিনের তুলনায় রাতেই বেশি হচ্ছে। ফলে মানুষ ভ্যাপসা গরমে হাসফাঁস পরিস্থিতির মধ্যে বিনিন্দ্র রজনী পার করছে। দুর্ভোগে পড়েছে শিশু ও বয়:বৃদ্ধ মানুষ। এছাড়া বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মিল কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যুতিক মেশিন। ব্যবসা বাণিজ্যেতেও এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করার মত। বিশেষ করে কাপড়ের দোকান, ওয়েল্ডিং কারখানা সহ বিভিন্ন ধরনের মিল কল কারখানায় এরুপ লোডশেডিংয়ের কারণে মালিকগন সময় মত তাদের পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না।

লোডশেডিং বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কেএম বেলাল হোসেন বলেন, বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। মিল কলকারখানা ঘন ঘন লোডশেডিং ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ পুড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ লোড শেডিং বেশি থাকায় দুর এলাকার ক্রেতারা পৌর এলাকায় পণ্য ক্রয় করতে পারছে না। এরুপ পরিস্থিতির দ্রæত উত্তোরনে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহŸান জানাচ্ছি।

বিদ্যুতের এরুপ লোডশেডিং বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সহকারি জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) শামীম কাওসার বলেন, আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে দুইটি গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ আনা হয়। এর মধ্যে পাবনা নূরপুর থেকে চাটমোহরে বিদ্যুৎ আনা হয়ে থাকে। চাটমোহর থেকে এ অঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে ৩৫/৩৬ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বর্তমানে সেখানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ১৫/১৬ মেঘাওয়াট। এই বিদ্যুৎ দিয়েই সকল এলাকায় আমাদের সরবরাহ করতে হচ্ছে।