ডিকভেলা-গুনারত্নের ব্যাটে ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল দুই দলই। জিম্বাবুয়ে কখনো টেস্টে হারাতে পারেনি শ্রীলঙ্কাকে। তবে ৩৮৮ রানের যে লক্ষ্যটা তারা দিয়েছিল, এত রান তাড়া করে এর আগে কখনো জিততে পারেনি শ্রীলঙ্কাও। পারেনি শ্রীলঙ্কার মাটিতে অন্য কোনো দলও।

কিন্তু আগে কখনো যা হয়নি, সেটা যখন-তখন হয়ে যেতে পারে বলেই না এর নাম টেস্ট ক্রিকেট। নইলে চতুর্থ দিন শেষে কজন ভেবেছিল, শ্রীলঙ্কা এই রান তাড়া করতে নেমে প্রায় এক সেশন হাতে রেখেই জিতে যাবে! কলম্বোতে চার দিনেরও বেশি আধিপত্য ধরে রাখা টেস্টটা শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে হারল ৪ উইকেটে। ষষ্ঠ উইকেটে নিরোশান ডিকভেলা-আসেলা গুনারত্নের ১২১ রানের জুটিই মূলত ম্যাচ বের করে নিয়ে গেল। টেস্ট ইতিহাসেই চতুর্থ ইনিংসে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে মাত্র চারটি। এর কোনোটিই উপমহাদেশে নয়।

ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। কখনো তৃতীয় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত, কখনো জিম্বাবুয়ের ফিল্ডারদের ‘বদান্যতা’ ম্যাচটা তাদের হাতে এনে দিয়েছে। তৃতীয় আম্পায়ার শামসুদ্দিনের ভুলটাই অনেক দিন তাড়া করে বেড়াবে জিম্বাবুয়েকে। ৩৭ রানে ব্যাট করার সময় সিকান্দার রাজার বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন ডিকভেলা। রিপ্লেতে দেখা যায়, দাগের ওপরে ছিল ডিকভেলার পা, এক চুলও ভেতরে নয়। স্টাম্পিংয়ে ‘অন দ্য লাইন’ মানে পরিষ্কার আউট। কিন্তু ভারতীয় আম্পায়ার শামসুদ্দিন সবুজ বাতি জ্বালিয়ে দেন অবিশ্বাস্যভাবে! ওই সময় ডিকভেলা আউট হয়ে গেলে ৬ উইকেটে ২৩৭ হয়ে যেত শ্রীলঙ্কা।

ডিকভেলা দ্বিতীয়বার জীবন পান ৬৭ রানে। শন উইলিয়ামসের বলে ক্যাচ ফেলেন জিম্বাবুইয়ান উইকেটকিপার রাজিস চাকাভা। তখনো লক্ষ্য থেকে ১০২ রান দূরে শ্রীলঙ্কা। ডিকভেলা পরে আউট হয়েছেন ৮১ রান করে। চাকাভা পরে ৫৪ রানে থাকা গুনারত্নেকেও জীবন দিয়েছেন স্টাম্পিং মিস করে। তখনো শ্রীলঙ্কার আরও ৫০ রান লাগে ম্যাচ জিততে।

অথচ দিনটা শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়েকে আশার আলো দেখিয়ে। আগের দিনের ৬০ রানের সঙ্গে আর মাত্র ৬ রান যোগ করেই ফিরে যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। ১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা কুশল মেন্ডিসও ফেরেন আর মাত্র ৮ রান করেই। দুজনকেই ফিরিয়েছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেমার। কিন্তু বাকি বোলার আর ফিল্ডাররা তাঁকে যোগ্য সঙ্গই দিতে পারেননি। ডিকভেলা আউট হওয়ার পরও ক্রেমার নানাভাবে চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু গুনারত্নে আর দিলরুয়ান পেরেরার ৬৭ রানের জুটি ভাঙতে পারেননি। ৮০ রানে অপরাজিত থাকা গুনারত্নে জিতে নিয়েছেন ম্যাচসেরার ট্রফিটাও।

দুর্দান্ত একটা ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল জিম্বাবুয়ের। ক্রেমার অবশ্য এই লড়াইটাকেও কম প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন না, ‘আমরা খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাই না। সুতরাং, মাঝেমধ্যে মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন হয়ে যায়। তবে এই টেস্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। সেটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আর ওয়ানডে সিরিজে জয় তো বড় প্রাপ্তিই। এটা আমাদের বিশ্বাস দিয়েছে, আমরা বড় দলগুলোকেও হারাতে পারি।’