একান্ত সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তালুকদার

নিউজ ডেস্ক: একুশে টেলিভিশনের সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি ও আমিরাত থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা মাসিক প্রবাসের প্রহরের সম্পাদক। যিনি দীর্ঘ ২২ বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। এই গুণি সাংবাদিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না নিজ চোখে দেখার আলোকে তার অভিজ্ঞতা  জানার জন্য তার মুখোমুখি হই। তার আলোকে ঢাকানিউজ24 এর আজকের এই প্রতিবেদন।

প্রশ্নঃ আরব আমিরাতে মোট কত লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন?

সাইফুল ইসলাম তালুকদারঃ সরকারী হিসাব মতে সাড়ে আট লাখ হলেও মূলত ১০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি অবস্থান করছেন।

প্রশ্নঃ আরব আমিরাতে প্রবাসি বাংলাদেশীরা বর্তমানে কী অবস্থায় আছেন ?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার: আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে যতটুকু জানি, তা হচ্ছে বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ী আছেন, তাঁরা ভিসা বন্ধের কারণে বাংলাদেশী শ্রমিকের অভাব বোধ করছেন। যে কারণে প্রবাসীদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। প্রবাসীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণ শ্রমিকের অভাব। যেসব শ্রমিক সেদেশে অবস্থান করছেন তাতে ট্রান্সফার ভিসা বন্ধ থাকায় তারাও ভাল বেতনে নতুন কর্মসংস্থানে যোগ দিতে পারছে না।

প্রশ্ন: কোন সাল থেকে আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ রয়েছে এবং এর কারণ কি ?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার : ২০১২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ রয়েছে। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। যেমন একদিকে আমাদের অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক আরব আমিরাতের আইন-কানুন তেমন শ্রদ্ধার চোখে দেখেন না। তাস খেলা, জুয়া খেলা, মদ বিক্রি, মদ পান, রাস্তায় যেখানে সেখানে পানের পিক ফেলা, ভাসমান দোকান বসিয়ে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি, ডাস্টবিন থেকে পুরোনো জিনিস খুজে নিয়ে বিক্রি করা, কোম্পানি থেকে সামান্য সুবিধার জন্য অন্য কোম্পানিতে গিয়ে কাজ করাসহ নানা কারণে আমিরাত সরকার বাংলাদেশি শ্রমিকের ওপর ক্ষুব্ধ। পাহাড়সম অভিযোগ হাজির হয়েছে তাদের ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে প্রশাসনের নানা জায়গায়। পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যাও বেশি। সব মিলে আরব আমিরাত সরকার বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা বন্ধ করে দেয়।

প্রশ্ন: বন্ধ হওয়া ভিসা চালু হবে কবে, একটু বলবেন?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার : ভিসা বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৫ বছর। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ২৫-২৭ অক্টোবর দুবাই সফর করেন। তখন প্রবাসীরা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যখন আসছেন, তাহলে এবার একটা কিছু হবে- এমন আশাই ছিল প্রবাসীদের মাঝে। তিন বছর গত হয়ে গেল কিন্তু ভিসা-জট খুললো না। তারপরও প্রবাসীদের আশা একটুও দমেনি, তারা আশা করছেন আবার আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের দরজা খুলে যাবে। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে, ভিসার জট খোলার জন্য এবং উভয় দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে এবং আমরা আশা করি, হয়তোবা আমাদের শ্রমিকদের ভাগ্যের দরজা অচিরেই খুলে যাবে।

প্রশ্ন: আপনি কত সালে আরব আমিরাতে গিয়েছেন এবং সাংবাদিকতার পাশাপাশি সেখানে কী করছেন?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার : আমি দীর্ঘ ২২ বছর এই দেশে অবস্থান করছি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি ভালো কোম্পানীতে চাকরি করছি।

প্রশ্ন: আপনার শিক্ষাগতযোগ্যতা কি?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার : আমি বাংলাদেশ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে এখানে এসেছি। তারপর আরব আমিরাতের নাম করা মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করি।

প্রশ্নঃ কত সাল থেকে সাংবাদিকতা করছেন?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার : ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির শুরু। আমি প্রথম চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী ও দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় লিখি। এরপর দৈনিক স্বাধীন দেশসহ আরো কয়েকটি পত্রিকায় আমার লেখা নিয়মিত ছাপা হয়। এরপর আমিরাতে পাড়ি জমাই। সালটা ১৯৯৬। আমিরাতে এসেই ব্রিটিশ কাউন্সিলে একটি কোর্স করি। এরপর সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেই। মন তো মানল না, আবার লেখালেখি শুরু করি। যুগান্তর, দৈনিক ইনকিলাব, ভোরের কাগজ, আমার দেশ, দৈনিক খবরসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করি। সেখানে আমার সবসময় জাতীয় খবরের পাশাপাশি প্রবাসী সুখ-দুঃখ নিয়ে লেখা দেয়ার চেষ্টা থাকত। পরে একুশে টেলিভিশনে আমিরাত প্রতিনিধি হিসাবে যোগদান করি। আমিরাতে মনের টানে নিজের তত্বাবধানে বাংলা পত্রিকা প্রবাসের প্রহর সম্পাদনা করি, যা প্রবাসীরা সানন্দে গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন: আমরা জানি, আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন অবস্থান করছেন একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এর কোনো স্বীকৃতি পেয়েছেন?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার : আসলে স্বীকৃতি পেয়েছি এটা বলতে গেলে নিজেকে বেমানান মনে হয়। প্রশ্ন করেছেন বলে উত্তর দিতে হয়। ২০০৩ সালে আমিরাতে সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী প্রবাসে আমার সাংবাদিকতার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রদূত অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।

সম্প্রতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ কুমার সিনহা আরব আমিরাত সফরে গেলে এবং এনআরবি কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য একটি ক্রেস্ট প্রদান করেন। হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট গ্রপ অব বাংলাদেশ এছাড়াও আরব আমিরাতে বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকেও আমাকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।