লোকসানি ৬ কোম্পানি দরবৃদ্ধির শীর্ষে

নিউজ ডেস্ক: ব্যাংক বহির্ভূর্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের তালিকাভুক্ত পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ারদর আরও বেড়েছে। গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বেড়েছে কোম্পানিটির। সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সায়। আরও দর বাড়বে_ এমন আশায় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের অনেকেই শেয়ারটি ধরে রাখার কৌশল নেন। ফলে লেনদেনের বড় অংশে বিক্রেতাশূন্য থাকে শেয়ারটি।

অথচ লোকসানে থাকায় কোম্পানিটি গত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল গত মঙ্গলবার। এ ঘোষণার পর প্রথম দুই দিনে শেয়ারদর ৪০ পয়সা বা পৌনে ৪ শতাংশ বেড়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোম্পানিটি মুনাফায় এসেছে বলে গুজব আছে। যদিও বছরের সাড়ে ছয় মাস পার হওয়ার পরও প্রথম প্রান্তিক ও অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

শুধু পিপলস লিজিং নয়; ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ আছে বা লোকসান দিচ্ছে এমন কোম্পানি দুলামিয়া কটন, ঢাকা ডাইং, ইমাম বাটন, মেট্রো স্পিনিং, রহিমা ফুড এবং বিচ হ্যাচারি ছিল ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে। বেড়েছে ৬ থেকে ১০ শতাংশ দর। তবে তুলনামূলক বেশি লেনদেন হয়েছে পিপলস লিজিং ও ঢাকা ডাইংয়ের। ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে এ তালিকার সপ্তম থেকে নবম অবস্থানে ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো মৌল ভিত্তির আফতাব অটোমোবাইলস, ড্রাগন সোয়েটার ও ম্যাকসন্স স্পিনিং।

দরবৃদ্ধিতে দুর্বল মৌল ভিত্তির কোম্পানির প্রাধান্য থাকলেও গতকালের লেনদেনের শীর্ষে থাকা অধিকাংশ কোম্পানি ব্যবসাসফল। তবে গুজবেও কিছু কোম্পানি লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে। সর্বোচ্চ ৭৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইফাদ অটোস। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৭০ পয়সা দর বেড়ে ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে।

লেনদেনের এর পরের অবস্থানে থাকা কনফিডেন্স সিমেন্ট, কেয়া কসমেটিক্স, ডরিন পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের ৪১ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে ৭০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে কেয়া কসমেটিক্সের লেনদেন বৃদ্ধির কারণ ব্যবসা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত গুজব।

লেনদেনের শীর্ষ তালিকার সপ্তম স্থানে ছিল ফু-ওয়াং ফুড। কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত খবরটি গুজব বলে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানানোর পর বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কেউ কেউ শেয়ারটি বিক্রি করে দিতে মরিয়া ছিলেন। এ কারণে লেনদেন বেড়েছে বলে জানান বাজার সংশ্লিষ্টরা। এতে শেয়ারটির দর দেড় টাকা কমেছে।

গতকাল মিশ্র প্রবণতায় সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। ডিএসইতে ১৫৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৪২টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৩২টির দর। গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইফাদ অটোস, ব্র্যাক ব্যাংক, আইডিএলসির মতো কিছু বৃহৎ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ওপর ভর করে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বেড়েছে।

সিএসইতে ১২১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ১১৪টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৩৩টির দর। এতে সিএসসিএক্স সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১০৯৫২ পয়েন্টে উঠেছে। দুই বাজার মিলে গতকাল ১ হাজার ৩৩৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় প্রায় ২৭৪ কোটি টাকা বা পৌনে ২৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ডিএসইর লেনদেন ২৫৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেড়ে ১ হাজার ২৬৩ কোটি টাকায় উঠেছে।