চিকুনগুনিয়ায় ব্যথার ওষুধ সেবন করা যাবে কি

নিউজ ডেস্ক: চিকুনগুনিয়া দেশব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে। এটা একটা মশাবাহিত ভাইরাস রোগ। কয়েকদিন জ্বর থাকে। পেশী ও জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। থাকে সর্দি-কাশি অন্যান্য উপসর্গ। তবে চিকুনগুনিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে মাংস পেশী ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা। অনেকের ক্ষেত্রে এই ব্যথা এতটাই ভয়াবহ থাকে যে হাঁটা-চলা করা পর্যন্ত অসম্ভব হয়ে পড়ে। চিকুনগুনিয়ার আর একটি খারাপ দিক হচ্ছে যে মশার দংশনে চিকুনগুনিয়া হয় সেই এডিস মশার দংশনে ডেঙ্গু জ্বর হয়। ফলে চিকিৎসকদের প্রথম দিকে খুব সমস্যা হয়ে যায় এটা চিকুনগুনিয়া না ডেঙ্গু তা নির্ণয় করতে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং চিকুনগুনিয়া রোগের গাইডলাইন প্রণয়ন কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. অনুপকুমার সাহার মতে, যদি কোন রোগীর প্রতীয়মান হয় তার ডেঙ্গু হয়নি তাহলে চিকুনগুনিয়াজনিত মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথার জন্য পেইন কিলার সেবন করতে পারে। এক্ষেত্রে মাসল রিল্যাক্সান্ট যেমন ট্যাবলেট মায়োল্যাক্স, বেলকোফেন দিনে ২টা করে ব্যথা না কমা পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া এনএসএআইডি, যেমন-রিউমাফেন, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম (ক্লোফেনাক) দেওয়া যেতে পারে। তবে ব্যথা নাশক ওষুধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চেষ্টা করা উচিত ব্যথানাশক জাতীয় ওষুধ কম সেবন করা। জানা দরকার, এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই গ্যাসের ওষুধ সেবন করতে হবে। তবে মাসল রিল্যাক্সান্ট, মায়োল্যাক্স সেবনের পূর্বে কোন ধরনের গ্যাসের ওষুধ যেমন র‌্যানিটিডিন, অমিপ্রাজল ইত্যাদি সেবন করার প্রয়োজন নেই।

এছাড়া চিকুনগুনিয়ার রোগীদের পর্যাপ্ত শরবত জাতীয় পানীয় পান করা উচিত। বাজারে অনেকে এখন ভিটামিন সি জাতীয় শরবত যেমন ক্যাভিক সি বাজারজাত করছে। একটা ট্যাবলেট এক গ্লাস পানিতে গুলিয়ে খেতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় তাজা ফলের রস, ভিটামিন সি জাতীয় খাবার এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার আহার করা।