উত্তরা গণভবন থেকে মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণ

৫০ বছরের ইতিহাসের কলঙ্কমোচন
উত্তরা গণভবন থেকে মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণ

নাটোর প্রতিনিধি
অবশেষে নাটোরের উত্তরা গণভবন থেকে আব্দুল মোনায়েম খানের নামফলক ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১ টার দিকে উত্তরা গণভবনখ্যাত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির ‘মেইন প্যালেসে’ স্থাপিত নাম ফলকটি জেলা প্রশাসন ও গণপুর্ত বিভাগের উদ্যোগে অপসারন করা হলে কলংকমুক্ত হয় প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাঞ্চলীয় বাসভবন উত্তরা গণভবন। অপসারনের সময় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এবং নাটোর-(০১) আসনের সংসদস সদস্য আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. আজাদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) ড. চিত্রলেখা নাজনীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনিরুজ্জামান ভুঞা, পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা সহ সকল স্তরের জনতা উপস্থিত ছিলেন।
নাম ফলক অপসারনের পর মুল ফটকের বাহিরে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যাগে এক পথসভার আয়োজন করা হয়। ওই পথসভায় তিন সাংসদসহ মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, আইনজীবি, শিক্ষকরা বক্তৃতা করেন। এর আগে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকার জেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস থেকে তিন সাংসদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল স্তরের মানুষদের একটি গণমিছিল দীর্ঘ প্রায় ৪ কিলোামিটার পথ হেঁেট গণভবনে গিয়ে কুখ্যাত মোনয়েম খানের নাম ফলক অপসারনে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, নামফলকটি অপসারণের জন্য গত ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে মোনায়েম খানের নামফলক জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে নাটোরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই চিঠির আলোকেই জেলা প্রশাসন ও নাটোর গণপূর্ত বিভাগের সহায়তায় কুখ্যাত মোনায়েম খানের নাম ফলকটি আজ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৯৬৭ সালে দিঘাপতিয়া রাজ প্রাসাদটি গভর্ণর হাউজের উদ্বোধন করেন হেলালে পাকিস্থান মোনয়েম খান। এদিকে দীর্ঘদিন পর হলেও উত্তরা গণ ভবন থেকে মোনায়েম খানের নাম ফলক অপসারণ হওয়ায় সাধারন মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. আজাদুর রহমান বলেন, কুখ্যাত মোনায়েম খানের এই ফলক অপসারনে কলংকমুক্ত সহ উত্তরা গণভবনের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন কুখ্যাত মোনায়েম খানের নাম ফলকটি অপসারন করায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ উপলদ্ধি করছে। প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাঞ্চলীয় বাসভবন উত্তরা গণভবন থেকে তার নাম গুড়িয়ে দেওয়ায় নাটোরের মানুষ এখন মহাখুশী ।