আফগান ক্রিকেটের বিস্ময়কর উন্নতি

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে স্বপ্নের লর্ডসের মাঠে মঙ্গলবার প্রথমবারের মত খেলার সুযোগ পেল যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ক্রিকেট দল। শরণার্থী শিবিরে তাদের ক্রিকেটের উত্থান ঘটলেও সীমানা পেরিয়ে যোজন যোজন মাইল দূরত্বে এসে এ যেন ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রচিত হল।

খুরাসানের মত ঘিঞ্জি পাকিস্তানী ক্যাম্প যেখানে নেই কোন পিচ, খেলাধুলার সামগ্রী, উইকেট, হেলমেট, গ্লাভস, চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা। সেখানে রয়েছে কেবলমাত্র ক্ষুধা আর ক্ষুধা। যা আফগানিস্তানকে টেস্ট খেলুড়ে অভিজাত ক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য সহায়ক হয়েছে। গত মাসেই টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে আফগানিস্তান।

পাকিস্তানের সীমান্ত শহর পেশোয়ারে কাছাকাছি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৪০ বছর যাবত লাখ লাখ আফগান আশ্রয় নিয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রে তারা ক্রিকেট ভালবাসায় আক্রান্ত হয়েছে।

কুনার প্রদেশের এক শরণার্থী ৩৫ বছর বয়সী আব্দুল ওয়াহিদ বার্তা সংস্থা এএপপিকে বলেন, ‘আমরা এখানে ক্রিকেট শিখেছি এবং এই ক্রিকেটকে আমরা আফগানিস্তানে নিয়ে গেছি এবং আফগান দল এখন বিশ্ব পর্যায়ে খেলছে, পুরো বিশ্বের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

শরণার্থীদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠাতে গত বছর পাকিস্তান একটি বিতর্কিত আইন চালু করেছে। যার ফলে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পার হয়ে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইসলামাবাদ ও কাবুলের নতুন নিষেধাজ্ঞায়ও খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব পড়ছে। দেশের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে ক্রিকেটের পরিবর্তন।

কট্টর পন্থী ইসলামী তালেবান শাসনামলে আফগানিস্তান ক্রিকেটকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তালেবানরা ক্রীড়াকে ধর্মীয় কর্তব্য থেকে বিরত থাকা হিসেবে বিবেচনা করতো।