চট্টগ্রামে মাছ ও সবজির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

 রনজিত কুমার শীল, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন বাজারে মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ এবং বিভিন্ন সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে গরুর মাংসের দাম ছিল প্রতি কেজি ৭০০ টাকা। এখন টাকা ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় নেমে এসেছে। পাশাপাশি ছাগলের মাংসেও ১০০ টাকা, ফার্মের মুরগিতে ২০ টাকা ও দেশি মুরগির দাম কেজি প্রতি ৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ছাগলের মাংস ৬৫০, ফার্মের মুরগি কেজিতে ১৩০ ও দেশি মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে গত দুই সপ্তাহের তুলনায় দাম কমেছে গরুতে ১২০ টাকা, ছাগলে ১০০, ফার্মের মুরগিতে ৩০ ও দেশি মুরগিতে ৭০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর রেয়াজ উদ্দিন বাজার, ২ নম্বর গেইটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স, কাজির দেউরী, চকবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া ভেল্লাপাড়া ক্রসিং বাজার ঘুরে জানা গেছে, মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও মাছ এবং সবজির বাজার চড়া। সপ্তাহখানেক আগে পুকুরের কাতলা মাছের দাম ছিল কেজি প্রতি ৩০০ টাকা। সেটি এখন বেড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পুকুরের রুই মাছ ছোট-বড় বেঁধে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ৩৫০ টাকায়। এখন তা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বার্মাইয়া ও ইন্ডিয়ান রুই বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, ৮’শ থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০০ টাকায়, তেলাপিয়া ১৭০, লইট্টা ১৩০, কোরাল ৫০০, বড় পোয়া ৩০০, শিং ৬০০, দেশী কৈ ৪০০ ও চিংড়ি প্রকার ও সাইজ বেঁধে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

এদিকে বাজারগুলোতে সবজির দাম অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি কাঁকরোল ৫০, তিতকরলা প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০, কচুর ছড়রা ৩০, শসা প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০, বরবটি ৫০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৩০, আলু ২০, পটল ২০, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, ধনেপাতা (শ্যাম বহর) ১২০ টাকা ও ধনে পাতা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রেয়াজ উদ্দিন বাজারে সবজি তরকারি কিনতে গিয়ে জনৈক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, গত সপ্তাহ থেকে সবজির দাম প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে আগুন। বাজার মনিটরিং কমিটির নিয়মিত তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে সবজি ও মাছের দাম ইচ্ছেমতো বৃদ্ধি করে রেখেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তিনি জেলা প্রশাসনসহ বাজার মনিটরিং কমিটির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।