ঈশ্বরদীতে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় বাল্য বিয়ে বন্ধ

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা : ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের ওমান প্রবাসী আব্দুর রহিমের কন্যা উর্মি খাতুন (১৩) এর বিয়ের দিন ছিল গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা। এলাকাবাসির মাধ্যমে বাল্য বিয়ের সংবাদ জানতে পেরে সাংবাদিকেরা ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুলাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দিয়ে ওই বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসি জানান, উর্মি মাঝগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী। উর্মির বাবা মাস খানেক আগে ওমান থেকে দেশে এসেছেন। দুই লক্ষ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে ঈশ্বরদী শহরের আকবরের মোড়ের খালেক নামের এক ব্যক্তির সাথে শিশু মেয়ের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা। বৃহস্প্রতিবার রাতে ইউএনও’র পক্ষ থেকে মুলাডুলি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা লোক পাঠিয়ে এই বিয়ে বন্ধ করে দেন। বিয়ে বন্ধ হওয়াতে শিশু মেয়েটি সাময়িক রক্ষা পেল। তবে গোপনে বিয়ে দেয়ার সম্ভনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

মাঝগ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আজাদুল অলম বলেন, আড়কান্দি গ্রামের প্রবাসী আব্দুর রহিমের কন্যা উর্মি খাতুন (১৩) মাঝগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী। বাল্য বিয়ে হওয়াতে স্কুলের শিক্ষার্থী ক্রমান্বয়ে ঝড়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় শিশু উর্মির বাল্য বিয়ে বন্ধ হওয়াতে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মুলাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা বলেন, আমার ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের প্রবাসী আব্দুর রহিমের কন্যা উর্মি খাতুন (১৩) মাঝগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী। ভুয়া একটি জন্ম সনদ তৈরী করে শিশু উর্মির বিয়ের জন্য কাজিকে দিয়েছিল মেয়ের বাবা রহিম। গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা উর্মির বিয়ের গেট, পেন্ডেল ও খাবার থেকে শুরু করে সব কিছুই তৈরী ছিল।

ইউএনও স্যার আমাকে জানানোর পর বৃহস্প্রতিবার রাতে মেয়ের বাবাকে বলে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। একই সাথে কাজিকে বলে দিয়েছি গোপনে এই বিয়ে দিলে আপনাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বাঘহাসলা গ্রামের আরও একটি বাল্য বিয়ে আজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে শিশু উর্মির বাল্য বিয়ের সংবাদটি জানতে পেরেছি। মুলাডুলি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে প্রবাসী আব্দুর রহিমের কন্যা উর্মি খাতুন (১৩) এর বিয়ের দিন ছিল গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা। মুলাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মালিথাকে বৃহস্প্রতিবার রাতে পাঠিয়ে উর্মির বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই উপজেলায় কোন বাল্য বিয়ে হতে দেয়া যাবেনা। বাল্য বিয়ে দিলে মেয়ের বাবাকে ভ্যাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেলে দেয়া হবে।