শনিবার লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক:  চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে আগামীকাল শনিবার রাতে ঢাকা ছাড়ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যাওয়ার আগে বৃহস্পতিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন তিনি।

এদিন রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে নিজের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় শুরু হয় ওই বৈঠক। প্রায় ২ ঘণ্টার বৈঠকে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের কথা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্য সফর করবেন। তিনি চোখে ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন। কবে তিনি দেশে ফিরবেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহাসচিব বলেন, এটা নির্ভর করবে তার চিকিৎসার উপর।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, বন্যা পরিস্থিতি, চিকুনগুনিয়া জ্বরের প্রাদুর্ভাব, চালসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণের অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরে অবিলম্বে সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠানোর দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

লন্ডনে খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় উঠবেন। সেখানে প্রায় ছয় সপ্তাহর মতো অবস্থান করতে পারেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ঈদুল আজহার আগে আগে তিনি দেশে ফিরবেন।

বিএনপির দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লন্ডনে খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার, আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী, দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারকদের একটি দলও যাচ্ছে। সেই দলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, তার ছেলে ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল যাচ্ছেন। এ ছাড়া একটি সেমিনারে অংশ নিতে আগামীকাল শুক্রবার লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।