প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে হয়রানি!

নিউজ ডেস্ক : পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর জাল করে আতিয়ার রহমান নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মহিষাপাড়া গ্রামে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান (৬৬) কে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকার সাধারণ মানুষ। গ্রাম্য নোংরা রাজণীতির কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে দূর্বল লোক পেয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, গ্রাম্য কোন্দলের কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে প্রতিপক্ষের এ কেমন শত্রুতা ! এমনকি লোহাগড়া উপজেলার পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর জাল করে আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বরাবরে অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষরা। পরে উপজেলা যাচাইবাচাই কমিটির কাছে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আতিয়ার রহমান জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে চাকুরি ফেলে এলাকায় চলে আসেন। ২৫ মার্চ থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নড়াইলের লোহাগড়া থানা এলাকা এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর কর্মস্থলে ফিরে যান। পরবর্তীতে আতিয়ার রহমান মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান।

অথচ, সম্প্রতি লোহাগড়ার মহিষাপাড়া গ্রামের মোশারেফ হোসেন মন্টু (৬৫) ও মনিরুল ইসলামসহ (৬৬) প্রতিপক্ষের লোকজন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ করেছেন।স্থানীয় যুবক চঞ্চল,বাবুল শেখ বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে অযথা টানাটানি করায় এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০১১ সালে এই চক্রটি আতিয়ারের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ করলেও তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংসদের চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত সনদে আতিয়ার রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যার ক্রমিক নম্বর ১৪৬৪৩। এছাড়া ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সচিব স্বাক্ষরিত সনদেও তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ২০০৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটেও আতিয়ার রহমানকে গেজেটভূক্ত (ক্রমিক নম্বর ১২২১) করা হয়।

এ ব্যাপারে মল্লিকপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল হোসেন বলেন, আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এদিকে, লোহাগড়ার মুক্তিযোদ্ধা এসএম মাহফুজুর রহমান, ফিরোজ আহমেদ মিয়া, দেলোয়ার হোসেন মোল্যা, মনজুর হোসেন, এমএম ইয়াউদ হোসেন, শেখ নূর মোহাম্মদ, শেখ মোশারফ হোসেন, শেখ কিউবার হোসেন, ইকরাম হোসেনসহ বিভিন্ন এলাকার ১১ জন সহযোদ্ধা আতিয়ার রহমানকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অপপ্রচার করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লোহাগড়া উপজেলার কমান্ডার ফকির মফিজুল হক বলেন, আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা ঠিক নয়। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা যাচাইবাচাইয়েও আতিয়ার রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

ওই গ্রামের লোকজন জানান, ২০০১ সালের ২০ ডিসেম্বর লোহাগড়ার মহিষাপাড়ার আব্দুল ওহাব শেখকে (৬৫) কুপিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমানের পরিবারের সদস্যসহ মহিষাপাড়ার ২০জনকে আসামি করা হয়। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১০ সালের ৪ মে নড়াইলের একটি আদালত আসামিদের খালাস দেন।

এরপর থেকে মোশারেফ হোসেন মন্টুসহ বাদি পক্ষের লোকজন আতিয়ার রহমানসহ আসামি পক্ষের লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব চালিয়ে আসছে। ওই ঘটনার জের ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান ও তার পরিবারকে কে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।