বাবুল দে আর নেই

নিউজ ডেস্ক:  ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনের প্রতিষ্ঠাতা একাত্তরের শহীদ মধুসূদন দে’র ছোট ছেলে বাবুল চন্দ্র দে (৪৯) ১৩ জুলাই প্রয়াত হয়েছেন।

তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা ছাড়াও অগণিত ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর সাম্প্রতিক সময়ে সাউথ ইস্ট ব্যাংকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রজন্ম ’৭১-এর পক্ষ থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের বিহারী তাবেদার গোষ্ঠী বাবুল চন্দ্র দের পিতা, মাতা, বড় ভাই ও বড় বৌদিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। শৈশবে পরিবাবের চারজনকে হারানোর পর স্বাধীন বাংলাদেশে বাবুল ও তার পরিবারের অন্য সদস্য নিদারুণ দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। কিন্তু চরম দুর্দশায়ও বাবুল আদর্শচ্যুত হননি। তিনি ছাত্রাবস্থায় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আমৃত্যু তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

১৯৯১-এর শেষভাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনে বাবুল ছিলেন সোচ্চারকন্ঠ ও রাজপথের সাহসী সৈনিক। শহীদ জননীর নিকট সান্নিধ্যে থেকে তরুণদের যারা সেদিন আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করছিল – তাদের মধ্যে বাবুল চন্দ্র দে অন্যতম। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক ছিলেন। এই আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার জন্য বাবুল শুধু রাজপথেই ছিলেন না, ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়রদী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে তিনি রাজাকার শিরোমনি যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।