চূড়ান্ত বহিষ্কারে রূপালী ব্যাংকের ৫ কর্মচারীকে শোকজ

সিনিয়র রিপোর্টার: রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের এক জিএমসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তকৃত ব্যাংকটির পাঁচ কর্মচারীকে কেন চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ব্যাংকের শৃঙ্খলা কমিটি। আগামী ৭দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে রূপালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এসব কর্মচারীরা হলেন- রূপালী ব্যাংকের অফিস সহকারী ও সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্ট) সাধারণ সম্পাদক মো. কাবিল হোসেন কাজী, ব্যাংকের অফিস সহকারী মো. আরমান মোল্লা, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আহসান হাবিব ও গাড়িচালক মো. আবুল কালাম আজাদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর পরই শৃঙ্খলা কমিটি কর্মচারীদের এই শোকজ নোটিশ দিয়েছে। এর আগে তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সিবিএর এ পাঁচ নেতাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। শোকজের বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. কাবিল হোসেন কাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রূপালী ব্যাংকের শৃঙ্খলা কমিটির একজন সদস্য বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। গত মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল বুধবার অভিযুক্তদের এই চিঠি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর এক অফিস সহকারীর বদলির পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাকে কাজে পুনর্বহাল করায় রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে সিবিএ সাধারণ সম্পাদক কাবিল হোসেন কাজীর নেতৃত্বে এ বিশৃঙ্খল কান্ড ঘটানো হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে দেয়া ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মহিউদ্দিন নামে এক অফিস সহকারীকে সম্প্রতি ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে বদলি করা হয়। এ বদলি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন মহিউদ্দিন। রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ওই কার্যালয়ে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন আদালত। এ নির্দেশ অনুযায়ী ৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে ব্যাংকের রেজিস্টার খাতায় সই করে কাজে যোগদান করেন মহিউদ্দিন। এর কিছুক্ষণ পরই রূপালী ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক কাবিল হোসেন কাজীর নেতৃত্বে একদল সিবিএ নেতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে ঢুকে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় তারা লোকাল অফিসের জিএম নুরুজ্জামান, এজিএম সাখাওয়াত হোসেন ও ডিজিএম শওকত আলী খানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে জিএম নুরুজ্জামানের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে চেয়ার থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে, হাজিরা খাতা থেকে মহিউদ্দিনের কাজে যোগ দেয়ার তথ্য সাদা কালি দিয়ে মুছে দেয়া হয়। একই সঙ্গে জিএম নুরুজ্জামানকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ওই কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন অভিযুক্তরা।

এমজেই,ঢাকা