চবির শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকাল ক্লাস বর্জন

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) এর শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, সেমিনার, শৌচাগার ও কম্পিউটার ল্যাব না থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ ক্লাস বর্জন করে তারা।

অন্যদিকে এ ইন্সটিটিউটটির প্রতিষ্ঠাকাল ২০১২ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাস, সেমিনার,বাথরুম ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করছে একাধিক শিক্ষার্থীরা।

সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের অধীনে এ ইন্সটিটিউট চালু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে পর্যাপ্ত ক্লাস রুম না থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজে ক্লাস করতে হত শিক্ষার্থীদের। কলেজের সাথে এ ইন্সটিটিউটটির ক্লাসরুম নিয়ে প্রায় সময় ঝামেলা সৃষ্টি হতো। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ইন্সটিটিউটকে বিষয়টি জানিয়ে আসে।

এর পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের পাশে নতুন করে আইন অনুষদ প্রতিষ্ঠার পর পুরাতন আইন অনুষদের ভবনটি ইন্সটিটিউটকে বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস সেমিনার, শৌচাগার, ডিবেটিং ক্লাস এর সুবিধা পেত। কিন্তু দুদিন আগে ভবনের নিচ তলা বিএনসিসিকে বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে আবার নতুন করে একাডেমিক কার্যক্রম সহ অন্যান্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করে তারা।

আন্দোলনরত ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এর প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুসরাত শারমিন বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে নানা সমস্যা নিয়ে কাটাতে হচ্ছে আমাদের। ল্যাব না থাকায় বিজ্ঞান অনুষদে গিয়ে আমাদের অন্যত্র ল্যাব করতে হয়। বর্তমানে আমাদের সমস্যাগুলো রেখেই নতুন যে ভবনটি দিয়ে ছিল তার নীচ তলা বিএনসিসিকে বরাদ্দ দেয়া প্রশাসনের বিরূপ আচরণ। যতদিন পর্যন্ত আমাদের এসব সমস্যা সমাধান না হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা সব ধরনের ক্লাস বর্জন করে থাকবো।’

এ বিষয়ে ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ এর পরিচালক কিরণ চন্দ্র দেব বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজে ক্লাস করতো।পরে নতুন করে আইন অনুষদ হওয়ায় পুরাতন ভবনটি আমাদের দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার ভিসি স্যার এর নির্দেশে ওই ভবনটির নীচ তলা বিএনসিসিকে বরাদ্দ দেয়া হয়। যার কারণে পুনরায় আবার শিক্ষার্থীরা নানান সমস্যায় পড়ছে। তবে এ বিষয়ে আমরা ভিসি সার এর সাথে আলোচনা করবো। যাতে এ বিষয়টি সমাধান করা যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. কামরুল হুদা বলেন, আমরা এটি নিয়ে আলাপ করছি। এটা বড় কোনো সমস্যা বলে মনে হচ্ছে না। প্রো-ভিসি ম্যাম ও শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের পরিচালকের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সমাধান হয়ে যাবে।