৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন ডিএসইতে

নিউজ ডেস্ক: টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যহত রয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে মূল্যসূচকে। থেমে নেই লেনদেনের গতিও। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। এরই ধরাবাহিকতায় মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৯০ কার্যদিবস বা সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।

এদিন ডিএসইতে মোট্ ১ হাজার ৩২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৬৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে আজ লেনদেন বেড়েছে ৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর ফলে বাজারটিতে টানা তিন কার্যদিবস লেনদেন বাড়লো।

এর আগে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এরপর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো আজ। মাঝে বেশ কয়েকদিন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হলেও ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ওপরে লেদেন হয় মাত্র একদিন গত ৮ মার্চ। ওই দিন ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩০২ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সে বড় ধরণের উত্থান ঘটে। লেনদেন শুরুর পর পরই বাড়তে থাকে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ফলে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

তবে দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটের পর লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমতে থাকে। একের পর এক প্রতিষ্ঠান দর হারানোর কারণে নিম্নমুখী হয়ে পড়ে মূল্যসূচক। এক পর্যায়ে দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে যায়।

এরপর কয়েক দফা মূল্যসূচকের উত্থান-পতনের মাধ্যমে লেনদেন শেষে ঊর্ধ্বমুখীই থেকে যায় সূচক। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে প্রধান সূচক হিসেবে চালুর পর এটিই ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। আগের কার্যদিবসেও (সোমবার) এ সূচকটির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল।

আজ প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বেড়েছে অপর দুটি সূচকও। ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস ডিএসইর সবকটি সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলো।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি মঙ্গলবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বাজার মূলধনেও। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকায়। আগের কার্যদিবসেও (সোমবার) বাজার মূলধনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। সোমবার ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়লেও কার্যদিবসের শেষে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই দর হারিয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৫টি বা ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আগের দিনের তুলনায় কমেছে। অপরদিকে দাম বেড়েছে ১০৭টির বা ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির বা ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে এদিন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। আজ প্রতিষ্ঠানটির ৬০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কেয়া কসমেটিকসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার। ৪৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- অগ্নি সিস্টেম, সিটি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ফু-ওয়াং ফুড এবং কনফিডেন্স সিমেন্ট।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ সিএসসিএক্স সূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৫২ পয়েন্টে। বাজারটিতে এদিন ২৬০টি প্রতিষ্ঠানের ৭৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেযার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৪টির। অপরদিকে কমেছে ১৪৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির দাম।