৩ মাস পর স্কুল ছাত্রী হত্যার অভিযোগে মামলা

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি: ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ৩ মাস ১৭ দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা উল্লাপাড়া গ্রামের মো: আজাদ ও তার মা শামসুন নাহারকে আসামী করে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা মো. বেলাল হোসেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১১জুলাই) চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি আবুল ফয়সল।

মামলার নথি ও স্কুল ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ৮ টার মধ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা উল্লাপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে আকলিমা আক্তার ঝুমুকে তাদের বসত ঘরে ঢুকে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চালায় বখাটে মো: আজাদ। এসময় ঝুমুর সাথে বখাটে আজাদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আজাদ ঝুমুর গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার লাশ ওড়না দিয়ে ঘরের তীরের (বুতুর) সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ঝুমুর মা রুফিয়া বেগম পাশের বাড়ি হতে এসে ঘরে ঢোকার সময় তাকে দেখে বখাটে আজাদসহ ২-৩ জনকে পালিয়ে যায়। পরে তার আত্ম-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ঝুমুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চৌদ্দগ্রাম থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আকলিমা আক্তার ঝুমুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু থানা পুলিশ কোন মামলা নেয়নি।

ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা বেলাল হোসেন জানান, এলাকার প্রভাবশালী লোকজনের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করতে পারেন নি। পরবর্তী সময়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দেন। এলাকার প্রভাবশালীদের চাপ ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের মামলা না নেয়ার কারণে ঘটনার প্রায় ৩ মাস ১৭দিন পর গতকাল আমি বাদী হয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি।

বেলাল হোসেন আরো বলেন, আসামী মো: আজাদ বিভিন্ন সময়ে আমার মেয়ে ঝুমুকে অশালীন আচরণ, নোংরা উক্তিসহ কু-প্রস্তাব দিত। আসামী আজাদ ০১৮৫৯-০৩৭১৯১ এবং ০১৮৬১-৪৫২৯১৩ মোবাইল ফোন নম্বর হতে তাকে খারাপ কথা বলতো ও আজাদের কথা না শুনলে এসিড নিক্ষেপ, অপহরণ এবং মেরে ফেলার হুমকি দিত। এ ব্যাপারটি আজাদের পিতা-মাতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কোন কাজ হয়নি। উল্টো আজাদ আমাদের শাসাত।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে মামলাটি শুনানির পর আদালত চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফয়সল জানান, যখন মেয়েটি মারা গিয়েছিল তখন মেয়ের বাবা বেলাল হোসেন ও বাতিসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান টিপু থানায় এসে বলেছিলেন মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তার মরদেহ ময়নাদতন্ত ছাড়াই ওরা নিতে ছেয়েছিল। কিন্তু আমি পোষ্টমর্টেম করিয়ে পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করেছি।

মেয়েটির পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল তখন। এখন মেয়ের পিতা বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি যথাযথভাবে তদন্ত করে আসল রহস্য উদঘাটন করা হবে। বর্তমানে থানার উপপরিদর্শক (এস.আই) মিজানুর রহমানকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।