ফোরজি খসড়া নীতিমালা সর্ম্পকে মতামত ১৮ জুলাই র্পযন্ত

নিউজ ডেস্ক: দেশে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) টেলিযোগাযোগ সেবা চালুর জন্য তরঙ্গ নিলামের খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। খসড়া নীতিমালার বিষয়ে ১৮ জুলাই পর্যন্ত আগ্রহী যে কেউ মতামত দিতে পারবেন। নীতিমালায় বিভিন্ন ব্যান্ডের তরঙ্গের যে দাম ঠিক করা হয়েছে ।

তরঙ্গ নিলামের খসড়া নীতিমালাটি গত সোমবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের দাম প্রতি মেগাহার্টজ ২৪০ কোটি টাকা, ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের দাম ২৮০ কোটি টাকা ও ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ২১৬ কোটি টাকা দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আবার যেকোনো তরঙ্গ দিয়ে যেকোনো প্রযুক্তির সেবা বা প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা সুবিধার জন্য মেগাহার্টজপ্রতি ৮০ কোটি টাকা আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে বিটিআরসি প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার জন্য মেগাহার্টজপ্রতি মূল্য ৫৬ থেকে ৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল।

প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা হলো যেকোনো তরঙ্গে যেকোনো প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার সুবিধা। বাংলাদেশে মুঠোফোন অপারেটররা বর্তমানে দ্বিতীয় (টুজি) ও তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) সেবার জন্য তিনটি আলাদা ব্যান্ডের তরঙ্গ ব্যবহার করে। এই তিনটি ব্যান্ড হলো ৯০০, ১ হাজার ৮০০ ও ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা পেলে এই তিনটি ব্যান্ডের তরঙ্গ দিয়েই টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি সেবা দিতে পারবে মুঠোফোন অপারেটররা। খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এই সুবিধা পেতে আগে কেনা প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য মুঠোফোন অপারেটরদের বাড়তি ফি হিসেবে ৮০ কোটি টাকা দিতে হবে।

মুঠোফোন অপারেটররা বলছে, তরঙ্গের যে দাম ধরা হয়েছে সেটি অনেক বেশি। এত দামে তরঙ্গ কেনার পর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করতে হবে আরও ২২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) সেবা চালুর পর মুঠোফোন অপারেটররা এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর বিপরীতে থ্রিজি থেকে অপারেটররা ঘরে তুলতে পেরেছে ৬ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে ফোরজিতে বিনিয়োগ করলে সেটিও লাভজনক হবে না।

জানতে চাইলে মুঠোফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবীর বলেন, ফোরজি সেবার জন্য তরঙ্গের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি যৌক্তিক করা দরকার। কারণ শুধু তরঙ্গ কিনলেই হবে না, ফোরজি গ্রাহক পর্যন্ত নিয়ে যেতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। তাই এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা দরকার হবে, যা সব পক্ষের জন্য লাভজনক হয়।

তরঙ্গের অতিরিক্ত দামের বিষয়টি উল্লেখ করে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে একটি যৌথ চিঠি দেয়। যৌথ চিঠিতে বিভিন্ন ব্যান্ডের তরঙ্গের দাম মেগাহার্টজপ্রতি সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার বা ১৬০ কোটি টাকা হতে পারে বলে মতামত দিয়েছে তিন অপারেটর।

তবে এসব বিষয়ে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাই মন্তব্য করতে রাজি হননি।