চিকুনগুনিয়ায় আতংকিত হওয়ার কিছু নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম চিকুনগুনিয়া নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, চিকুনগুনিয়া মরণব্যাধি নয়। এটি ভাইরাসজনিত একটি রোগ। কয়েকদিনের চিকিত্সায় এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করেন। এই রোগ এখন পর্যন্ত মহামারি রূপ ধারণ করেনি।

চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা নিধনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দেওয়াসহ সচেতনতা সৃষ্টি করার বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পাদন করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অধিদফতর ও প্রতিষ্ঠান। এই রোগে মৃত্যু হয় না।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় সচেতনতা সৃষ্টির উপর জোর দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জঙ্গি দমনসহ বিভিন্ন রোগের নতুন নতুন ভাইরাস প্রতিরোধে ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। চিকুনগুনিয়াও দমন করা হবে। ছোট পরিবার গড়ার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক পরিবার ছোট রাখতে হবে। ছোট পরিবার পরিচালনা করা সহজ। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শিক্ষার কারণেই আজকাল মানুষ ছোট পরিবার চায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলন, যে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা, মেধা ও শ্রমের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে নয়, প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষিত, দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তুলতে হবে। তৈরি করতে হবে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর তারুণ্য। দেশে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী। যার একটি বড় অংশ দ্রুত প্রজননক্ষম বয়সে প্রবেশ করছে। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

স্বাস্থ্যসচিব (স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ) মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) মো. সিরাজুল হক খান, অতিরিক্ত সচিব (স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ) সরদার আবুল কালাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ইউএনএফপিএ’র বাংলাদেশের প্রধান (স্বাস্থ্য বিভাগ) সাথিয়া ডোরাইস্বামী প্রমুখ।

এ সময়ে সমাজে নারী নির্যাতন ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ রোধে মসজিদের ঈমামদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করেন। একই সাথে পরিবার পরিকল্পনা, জনসংখ্যা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং বাল্য বিয়ে, কিশোরীর স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর আগে সকালে দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।