গৌরীপুরে আমন ধানের বীজ সংকট

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় আমন বীজের সংকট দেখা দিয়েছে। বীজসংকটের কারণে আমন চাষ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষক। বিএডিসির অধিকাংশ বীজ ডিলারের দোকানে ঝুলছে তালা। আর এই সংকট কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চড়া দামে আমনের বীজ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৩৪০ টাকার বীজের বস্তা কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১শ টাকা পর্যন্ত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে হাউব্রিড জাতের ১২৫ হেক্টর, উপশী জাতের ১৮হাজার ৯৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপশীজাতের বীজের চাহিদা ৫শ মেট্টিক টন। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চাহিদার ১০ভাগের ১ভাগও পূরণ করতে পারেনি। ২০টি ডিলারের মাধ্যমে বীজ উত্তোলন করা হয়েছে মাত্র ৪৭ মেট্টিক টন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার সাদিকুর রহমান বলেন, প্রধানত তিনটি কারণে এবার আমনের বীজের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমত, এবার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) চাহিদার চেয়ে অনেক কম বীজ উৎপাদন করেছে। দ্বিতীয়ত, অকাল বন্যা ও বøাস্ট রোগের কারণে বোরো ধানে ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। তৃতিয়ত এ বছর বন্যার কারণে হাওরে ধান না হওয়ায় কয়েক বছরের তুলনায় ধানের দাম বেশি। এ কারণে স্থানীয় কৃষকেরা বীজধান সংরক্ষণ না করেই ধান বিক্রি করে দিয়েছেন। কৃষকের ঘরে বীজ না থাকায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএডিসির বীজের অধিকাংশ দোকানে ঝুলছে তালা। বিএডিসির শর্তানুযায়ী, এসব ডিলারদের দোকানের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি লালসালু। এবার বীজ বিক্রির ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি বিভাগের ছিল না কোনো মনিটরিং। ফলে কয়েকটি দোকানে ক্যাশমেমো থাকলেও প্রকৃত কৃষকের তালিকা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

ডিলারদের দোকানে বীজ না থাকলেও বাইরে ৩৪০ টাকা মূল্যের ১০ কেজির বীজ ধানের বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজর ২০০ টাকায়। ডিলারের দোকানে বীজ না থাকায় উপজেলার স্থানীয় হাটে কৃষকের সংগৃহীত বীজের বাজারে ছিল উপচেপড়া ভিড়।

শ্যামগঞ্জ চরপাড়ার তোতা মিয়া জানান, খুচরা বীজের দোকানে বিএডিসির সিলযুক্ত সবুজ ট্যাগের ব্রি-ধান ৪৯ জাতের ১০ কেজি ধানের বীজ কিনেছেন ১ হাজার ১০০ টাকায়।

কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক হোসেন আলী বলেন, গৌরীপুর বাজারে দোকান থেকে ৬শত টাকা দিয়ে১০ কেজি ধানের বীজ কিনেছেন। একই কথা বললেন নওগা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন সহ আরো অনেক কৃষক।  কৃষকদের অভিযোগ ডিলারের দোকানে বীজ নেই, কিন্তু খুচরা দোকানে এ বীজ এলো কোথা থেকে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর সার-বীজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোক্তার উদ্দিন চৌধুরী জানান, বরাদ্দকৃত বীজ ডিলাররা ন্যায্য মূূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে তাই এখন কোনো ডিলারদের কাছে বীজ নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গৌরীপুরের বাইরে থেকে বিএডিসির আমনের বীজ সংগ্রহ করে চড়া দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বীজের সংকট বিষয়ে বিএডিসির ময়মনসিংহের আঞ্চলিক বীজ বিপণন কেন্দ্রের উপপরিচালক আইয়ুব উল্লাহ বলেন, শেষ মুহুর্তে যেটুকু বীজ ধানের সংকট দেখা দিয়েছিলো সেটার চাহিদা পূরণ হয়েছে। এখন কোথাও বীজের কোথাও সংকট নেই। আর ব্যবসায়ীরা যাতে বেশি দামে বীজ বিক্রি না করতে পারেন, সে জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান হচ্ছে।