আলোচনা হতে পারে,ষড়যন্ত্রও রুখতে হবে: ইনু

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির আড়ালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বিষয়েও দেশবাসীকে সজাগ থাকা এবং এ ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব কার্যত বিভ্রান্তিমূলক। এ প্রস্তাবের কোনো রূপরেখা নেই। এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা মূলত সংবিধানের বাইরে একটি ‘অস্বাভাবিক সরকার’ প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত। নির্বাচন বর্জনের হুমকি কার্যত গণতন্ত্রকে জিম্মি করারই অপচেষ্টা। তবে নির্বাচন নিয়ে সংবিধান অনুযায়ী সব সময় আলোচনা হতে পারে।

 একান্ত আলাপকালে হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়েই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। আর সংবিধান অনুসারেই সরকার তার মেয়াদ শেষে নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা পালন করবে। অর্থাৎ বর্তমান নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

সরকারই আগামী সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা গ্রহণ করবে। নির্বাচনকালীন সরকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না এবং নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে থাকে। এটা আগামীতেও হবে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ৪ দলের অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রমূলক হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে নির্বাচন বর্জন কিংবা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে কিছুতেই ম্লান করতে পারে না। আর সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর অন্যথা হওয়া কিংবা করার কোনো সুযোগও নেই। সুতরাং যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো শঙ্কা কিংবা প্রশ্নেরও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার এবং সুযোগ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের আছে। সংবিধান ও আইনানুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তিরও নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। কোনো দল কিংবা ব্যক্তিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে জোর করে বিরত রাখার কোনো সুযোগ কিংবা ক্ষমতা কারোরই নেই। একইভাবে সংবিধান ও আইনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীর যোগ্যতা-অযোগ্যতাও নির্ধারিত আছে। যারা অপরাধী, যারা যুদ্ধাপরাধী তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা রাখে না। যারা গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্রের পিঠে ছোবল হানে, যারা গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না, সেই জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গণতন্ত্র ও নির্বাচনের যোগ্য নয়।

হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী পঞ্চদশ সংশোধনীর পর বিচার বিভাগকে সম্পৃক্ত করে পুরনো ধাঁচের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। এটা জানার পরও সেই একই ধাঁচের নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি মূর্খতা কিংবা জ্ঞানপাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। এ দাবি করার মধ্যেই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিষয়টি স্পষ্ট। লাগাতার অন্তর্ঘাত-নাশকতা-আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, জনগণের ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যানের মুখে বিএনপি নতুন করে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলে জল ঘোলা করে অন্তর্ঘাত-নাশকতা-আগুন সন্ত্রাসের ফন্দি খুঁজছে। দেশে আজ যে স্বস্তি-শান্তি-উন্নয়নের ধারা চলছে, খালেদা জিয়ার তা সহ্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনের কথা বলে অন্তর্ঘাত-নাশকতা-আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি এবং অস্বাভাবিক সরকার আনার ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের পথ এখনও ছাড়েননি। এটি গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পথে কাঁটা বিছানোরই সমতুল্য।

২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় উদ্যোগী হয়েছিলেন_ এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশবাসী দেখেছে, খালেদা জিয়া সেদিন প্রধানমন্ত্রীর বিনীত আহ্বানকে কী কায়দায় প্রত্যাখ্যান করে অন্তর্ঘাত-নাশকতা-সন্ত্রাসের পথে ধাবিত হয়েছিলেন। আসলে নির্বাচন খালেদা জিয়ার এজেন্ডা নয়। নির্বাচন ভণ্ডুল করে দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দেওয়াই তার আসল উদ্দেশ্য। নির্বাচন কখনোই খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য ছিল না, এখনও নেই। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে দেশে অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে যুদ্ধাপরাধী খুনিদের বিচার এবং চুরির অর্থ পাচারের বিচার বন্ধ করাই তার উদ্দেশ্য। এ কারণেই খালেদা জিয়া নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ধার ধারেন না। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়া নতুন চক্রান্তের জাল বুনছেন। অনির্দিষ্ট, অস্পষ্ট ও তথাকথিত নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশ এখনও নিরাপদ নয়। জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। আগামী নির্বাচনের আগেই জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করা উচিত, যাতে নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়ার নতুন চক্রান্তে দেশ বিপদগ্রস্ত না হয়।

সূত্র: সমকাল