১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৯১৯ কোটি ডলার

নিউজ ডেস্ক: আমদানি ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়ছে না রফতানি আয়। ফলে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২৭৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৮১৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১০১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। মূলত দেশের আমদানি ব্যয় যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সে হারে রফতানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১১ মাসে ইপিজেডসহ রফতানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে তিন হাজার ১০৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল দুই হাজার ৯৯ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

তথ্যে আরও দেখা যায়, ইপিজেডসহ পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল তিন হাজার ৬৭০ কোটি ডলার। সে হিসাবে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৮৮ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এদিকে প্রবাসী আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় সরকারের চলতি হিসাব ফের ঋণাত্মক হয়ে গেছে। ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরজুড়ে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। এতে বৈদেশিক দায় পরিশোধে সরকারকে বেগ পেতে হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুলাই থেকে ২০১৭ সালের মে শেষে চলতি হিসাবে ২১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঋণাত্মক (-) হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৩১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ সময়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের বেতন-ভাতা পরিশোধে সেবামূল্য ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি হিসাবে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সে হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। গত দুই অর্থবছরে উদ্বৃত্তের ধারা অব্যাহত থাকলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে ঋণাত্মক ধারা চলছে। তা ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, আলোচিত সময়ে সেবা খাতে বিদেশি নাগরিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করা হয়েছে ৬৩৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর বাংলাদেশ সেবা খাতে আয় করেছে ৩২৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ খাতে ঘাটতি হয়েছে ৩১০ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি ব্যয় যে হারে বেড়েছে সে তুলনায় রফতানি আয় না বাড়ায় বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স কমায় ও সেবা খাতের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে চলতি হিসাবের ভারসাম্য।

তাদের মতে, আমদানির এ প্রভাব উৎপাদনশীল খাতের বিনিয়োগে পড়লে অর্থনীতির জন্য ভালো। তবে এই অর্থ যদি পাচার হয়ে থাকে তাহলে ফল অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। কেননা রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক কমে গেছে, যা বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। বর্তমানের এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে চাপের মুখে পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও।