কৌশল

এম.এস প্রিন্স

এই পৃথিবীতে এমন কোনো কথা নেই –
যে কথায় ভর করে এক সারিতে দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ।
এই পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি নেই –
যাকে অনুস্বরণ করে পথ বয়ে চলবে সমস্ত মানুষ।
এই পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্ম নেই –
যার ছায়া তলে ঠাঁই নিবে সমস্ত মানুষ।

‘আপনার মত করে সাজাব ধরা’ – এটা তাঁর কৌশল
রূহ জগতে তাই সমগ্র মানব জাতিকে বিভক্ত করেছেন।
এজন্যে ধরা তলে মানুষ মূলের দিকে ধাবিত হয় ।
মেঘের অশ্রু মৃত্তিকায় ঝরে বৃক্ষের অঙ্কুর ফোটে
মাটি মাটির পার্থক্য পরিবেশের মাঝেও বিরাজমান।
মানুষে মানুষে রূপ রঙ্গে পার্থক্য পার্থক্য কর্ম সংস্কৃতিতে।
ব্যবধান ধর্মে তবে সবে তারি আরাধনায় মুগ্ধ
কেউ করে এক রকম কেউ বা করে আর ভাবে।
তবু পারস্পারিক অধিকার আদায়ে নির্ভশীল সবে
সহানুভূতি সহমর্মীতা আন্তরিকতার ওপর
না যায় এসব তুলাদণ্ডে পরিমাপ।

আমি মেঘের ভাঁজে উষা দেবীর প্রাসাদে বসে তাই লক্ষ্য করছি।
স্বপ্নের নীল সাগরে স্প্রীড বোর্ডে করে ঘুরেছি সমস্ত পৃথিবী।
কোথাও অবাক করা গল্প – পর্যটক আসে দূর দেশ হতে
কোথাও বা মরে হাহাকারে পরিবেশও মেনহৌলের মত
গল্প কবিতা ধূসর ছায়া ঢাকা- তবু উজ্জ্বলে আপ্লুত
উন্নত জীবনের আসে ঠাঁই নিয়েছে উন্নয়নের তরে।
কারো বা জীবন পাতার ভুল হিসাবে গল্প আঁধারে
তবু কিছু সৃষ্টি শক্তি সামর্থ্যরে ফসল বুকের বল
সব ঝেড়ে স্বাধীন রূপে কালের স্রোতে সামনে চলে সবুজ তৃণের মত।
মালী এক স্থানে এক আর কোথাও বা করে ভিন্ন ফুলের চাষ
নদী সাগরের মাছ জেলে পুকুরে পায় না
পায় না আদার ব্যপারী জাহাজের কোনো খবর।
পারে না ধানের চাষী বাগানের ফুল ফোটাতে
পারে না ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করতে
পারে না কভু বুনো জন্তু ঘুরতে মুক্তাকাশ তলে খোলা পরিবেশে।
মাঝি দাঁড় টেনে চলছে ভাওয়াইয়া কণ্ঠে তাঁর
মৃদু হাওয়ায় কেশ উড়িয়ে আনমনে অপেক্ষা করছে তরুণী
অনন্ত কাল তার আশে কবিতা লিখে চলছে কত শত কবি।
এখানে জন্মে আরো কত মধুর কোমল গল্প
কখনো বা এই গল্পের কারণে কিছু জীবন আঁধারে লুকায়
তবু পায় নতুন রূপে প্রাণের আস্বাদ
অশ্রুধারা ঝরে যেখানে মানবিকতার সীমা – লাল সেলাম।
যার যার স্থান থেকে দিগন্ত পাড় পর্যন্ত এই যে মানুষ
কর্মের সৃজনশীলতায় নবাগত ফুল ফুটিয়ে চলছে
কুয়াশা বেধ করে অবণীকে দান করছে তা এক নতুনত্ব
এই নতুনত্বই মহাজানতার কৌশল
একে একে যা প্রকাশ পাচ্ছে মানুষের দ্বারা।