৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন

নিউজ ডেস্ক: গত অর্থবছরের শেষের দিকে উন্নয়নে বাড়তি অর্থ ব্যয় হলেও শতভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। উল্টো বিগত অর্থবছরে এডিপির বাস্তবায়ন গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশের বেশি থাকলেও গত অর্থবছরে তা কমে ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুসারে, সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যয় হয় ২৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। আর অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এ খাতে ব্যয় হয় ২৯ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।

বছরের শুরুতে এডিপি বাস্তবায়নে অবহেলা করে শেষের দিকে ঢালাও অর্থ ব্যয়ের পুরনো পথেই হাঁটছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

আইএমইডি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে সরকারের ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বাস্তবায়নে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা খরচ করেছে। এ সময়ে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এ হিসেবে বিগত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির (আরএডিপি) ৯২ দশমিক ৭২ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল। এর আগের অর্থবছর তা বাস্তবায়নের হার ছিল ৯১ শতাংশ। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট বরাদ্দের ৯৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল এডিপি বাস্তবায়নে।

আইএমইডি সূত্র জানায়, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৮২ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল। পরের অর্থবছরে এই হার দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে।

এরপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করলে ২০০৯-১০ অর্থবছর ৯১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়। এ সময়ের মধ্যে প্রতি বছরই এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৯০ শতাংশের বেশি। আট বছর পর আবার এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, এডিপি বাস্তবায়ন কাঙ্খিত না হওয়ার পেছনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর তদারকির অভাবকেই দায়ী করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, অবশ্যই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর তদারকি ছিল না। সবকিছু শুধু মুখে বললে হবে না, কাজে প্রমাণ করতে হবে।

আইএমইডি সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে স্বায়ত্বশসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নসহ মূল এডিপিতে মোট বরাদ্দ ছিল এক লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতেও এই বরাদ্দ রাখা হয়। ১ হাজার ৬৬৮টি প্রকল্পে এসব অর্থ খরচ করার কথা। এর মধ্যে সরকারের ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীনস্থ সংস্থাগুলো এক লাখ ৬ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা খরচ করেছে।

আইএমইডি জানায়, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এর পরই রয়েছে নৌ-পরিবহন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এ তিন মন্ত্রণালয় লক্ষ্যের চেয়ে বেশি ব্যয় করেছে।

এছাড়া গৃহায়ন, গণপূর্ত, প্রতিরক্ষা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে শীর্ষ ১০ ব্যয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তালিকায়।

অপরদিকে সবচেয়ে কম ব্যয়ের ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, সেতু বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন ও বিচার বিভাগ।

এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, গুলশানে জঙ্গি হামলার কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের অনেকে বাংলাদেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন। যে কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে।