ময়মনসিংহ শহরে পুলিশ ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মোড়ের ২নং পুলিশ ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর করেছে এবং এক আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে স্থানীয় যুবলীগকর্মীরা। এ সময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেনসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। বৃহস্পতিবার (০৬ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে শুক্রবার ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস. আই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় কলেজ রোডের শান্ত ও সাজ্জাদ নামে দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলম জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ১১টার দিকে শহরের গোলাপজান রোডে বাড়ি পুড়ানোর মামলার বাদী হযরত আলী মোটরসাইকেল যোগে কলেজ রোড দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় এই মামলার আসামী আসাদুজ্জামান অপু ও ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের নেতা মনিরুজ্জামান রনি নেতৃত্বে বাদী হযরত আলীর উপর হামলা চালায় মোটরসাইকেল ভাংচুর করে এবং বাদী হযরতকে উঠিয়ে নিতে চাইলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কলেজ রোডে গিয়ে আটককৃত বাদী হযরত আলীকে উদ্ধার করে এবং মামলার আসামী আসাদুজ্জামান অপু আটক করে । এ সময় মহানগর যুবলীগের নেতা মনিরুজ্জামান রনিসহ ৭/৮ জন পুলিশকে বাধা দেয় ও আটক আসামী আসাদুজ্জামান অপুকে পুলিশের কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেনসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পৃুলিশ বাদী হয়রত আলীকে উদ্ধার করে ফাঁিড়তে নিয়ে গেলে রাত সোয়া ১২টার দিকে মহানগর যুবলীগের নেতা মনিরুজ্জামান রনি নেতৃত্বে মোটরসাইকেল যোগে ১০/১৫ জনের সন্ত্রাসী দল অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২নং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে চেয়ার, টেবিল ব্যাপক ভাংচুর করে এবং বাদী হযরত আলীকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। এসময় পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্ল্ষ্টিদের নির্দেশ দেন। ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেন জানান, মহানগর যুবলীগের নেতা মনিরুজ্জামান রনি নেতৃত্বে পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গোলাপজান রোড ও কলেজ রোড এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও গ্রেফতার আতংকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহবায়ক শাহীনুর আলম বলেন, অপরাধের সাথে কোন নেতাকর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সংগঠন এর দায়ভার নিবে না। কোন অপরাধীকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। ###