অসামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রযোজক-নির্মাতা ও শিল্পীদের সমঝোতা চুক্তি

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে টিভি নাটকে নানা অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সেই অস্তিরতা কাটাতে টিভি নাটকের তিন সংগঠন টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ডিরেক্টরস গিল্ড এবং অভিনয় শিল্পী সংঘ একটি সমঝোতা চুক্তিনামা স্বাক্ষর করেছে।

আজ শুক্রবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় রাজধানীরর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে তিন সংগঠনের নেতা ও শিল্পী-কলাকুশীরা এই চুক্তিনামা স্বাক্ষরে অংশ নেন। সেসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন

তৌকির আহমেদ, এস এ হক অলিক, গাজী রাকায়েত, শহিদুল আলম সাচ্চু, ইরেশ যাকের, আহসান হাবিব নাসিম, সাঈদুল আনাম টুটুল ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মামুনুর রশিদ।

এছাড়া সেখানে অন্যান্যের টিভি-নাটক সংশ্লিষ্ট প্রযোজক, নির্মাতা, শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা চুক্তি অনুষ্ঠানে শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম মোট ৪৪টি সমঝোতা চুক্তি পাঠ করে শোনান। চুক্তি পাঠ শেষে শুরু হয় চুক্তিতে অসামঞ্জস্যতা নিয়ে সমালোচনা। প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পীরা এই চুক্তিপত্রের প্রায় প্রতিটি চুক্তিতেই ভারসাম্যহীনতা খুঁজে পান। একে একে সবাই সেইসব নিয়ে কথা বলতে থাকেন।

তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো নাটক বা টেলিছবি নির্মাণে নাট্যকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সত্বেও এই চুক্তির সঙ্গে নাট্যকারদের সংগঠনকে কেন সংযুক্ত করা হয়নি? নাট্যকারদের কেন আলাদা রাখা হলো? নাট্যকাদের সম্মানী কীভাবে কত নির্ধারণ করা হবে এবং একটি নির্মাণে তাদের দায়িত্ব বা জবাবদিহিতা কেমন হবে এইসব বিষয়েও আলাপ করা হয়নি।

পাশাপাশি শিল্পীদের সম্মানী নির্ধারণের কোনো সঠিক মানদন্ড বা উপায় উল্লেখ করা হয়নি। পরিচালকদের সম্মানীর ব্যাপারগুলো পরিস্কার নয়। অনেক নবীন শিল্পীরা অভিযোগ করেন- এই চুক্তিতে কোথাও সেইসব শিল্পীদের কথা ভাবা হয়নি যারা ইন্ডাস্ট্রিতে জুনিয়র বা পাসিং শটের শিল্পী হিসেবে পরিচিত হন। তাদের জন্য কোনো শুটিং সেটে বিশ্রামের স্থানটুকু পর্যন্ত থাকে না।

একের পর এক ত্রুটি নিয়ে মত প্রকাশ করতে থাকেন প্রযোজক, শিল্পী ও নির্মাতারা। একপর্যায়ে সংগঠনের নেতারা সবাইকে মন্তব্য প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। তারা বলেন, কারো কোনো আপত্তি থাকলে লিখিত আকারে যার যার সংগঠনে তা জমা দেবেন। মত বিবেচনা করে সংশোধনী আনা হবে। শিল্পী সমিতির নেত্রী বন্যা মির্জা মাইক্রোফোন সরিয়ে নিতে চাইলে হট্টগোল বেঁধে যায়। সাংবাদিকরাও মত প্রকাশের সুযোগ পাননি। পরে মামুনুর রশিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এসময় অনুষ্ঠানে আসা তিন সংগঠনের সদস্যরা অসামঞ্জস্যতায় ভরপুর এই চুক্তি সংশোধন না করে চুক্তিতে আপত্তি জানান। কিন্তু পরবর্তীতে চুক্তিতে সংশোধন আনা যাবে এই ঘোষণা দিয়ে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন তিন সংগঠনের নেতারা।

অনুষ্ঠানে অভিনেতা আবুল হায়াত বলেন, শর্মিলী আহমেদ, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, চঞ্চল চৌধুরী, ফেরদৌস আহমেদ রানাসহ আরও অনেকেই বক্তব্য রাখেন। তারাও বেশ কিছু চুক্তির সমালোচনা করেন। তারা দাবি করেন এই চুক্তিপত্রটিকে খসড়া বলা চলে। সবার মতামত নিয়ে কাটছাট করে এটি চূড়ান্ত করা যেত বলে দাবি করেন তারা। সেইসঙ্গে তারা এই চুক্তি মেনে চলতে সবাইকে অনুরোধ জানান। দিনে দিনে এটি আরও সুন্দর ও পরিমার্জিত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

এই ত্রিপাক্ষীয় সমঝোতা স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে তিন সংগঠনের নেতারা শপথ নেন একটি সুন্দর শিল্প মাধ্যম গড়ে তোলার এবং তাদের নাটকের গুনগত ঐতিহ্য আছে তা সমুন্নত রাখার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, রওনক হাসান, ইন্তেখাব দিনার, বিজরি বরকতউল্লাহ, নাঈম, নাদিয়া, ফারজানা ছবি, করবী মিজান, সুজানা, অর্ষা, দিলারা জামান, আহসানুল হক মিনু, শবনম ফারিয়া, তৌসিফ, শামীমা ইসলাম তুষ্টি, কৌশিক শংকর দাশ, তানিয়া আহমেদ, শাহরিয়ার নাজিম জয়, আনিসুর রহমান মিলন প্রমুখ।