জবাবদিহিতামূলক জনকল্যাণমুখী, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র চাই

নিউজ ডেস্ক:  একটি জবাবদিহিতামূলক জনকল্যাণমুখী, শোষণমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল ছিলো ১৯৭১ সালের দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের আর ত্যাগের সমুজ্জল আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। দুভ্যাগ্য বাঙালি জাতির ১৯৭৫ সালের জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তার চেহারা ঐতিহ্য ভিত্তি সব কিছুই হারাতে শুরু করেছে। ধনী, বনিক আর লুটেরা রাজত্ব ও সাম্প্রদায়িকতাবাদীদেও খপ্পরে পড়ে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি ও রাজনীতি, সমাজ, ধর্মান্ধতাবাদীদের চক্রান্তে বিপদগ্রস্ত আজ। হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ লুটেরা ও পেশিশক্তির প্রভাবে দেশের নিরীহ সাধারণ মানুষ, সংখ্যালঘু, আদিবাসীসহ সমাজে বৈষম্যের পাহাড় তৈরী করেছে। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদীদের সাথে আপোষ কামিতার ফলশ্রুতিতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি, পেশী নির্ভর রাজনীতির রাহুমুক্ত করা সে কারণে শত চেষ্টা করেও সম্ভবপর হচ্ছে না।

আজ ৬ জুলাই বিকাল ৫টায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উত্তর আলোচনা সভা ও ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, ড. আজিজুর রহমান, এডভোকেট এসএমএ সবুর, আব্দুল মুনায়েম নেহেরু, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সামছী, সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম মিলন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য লতিফুল বারি হামিম, আবু তাহের মিয়া, একে আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট ফয়েজ আহমেদ, মামুনুর রশিদ, অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম লাবলু, এম শফিউর রহমান খান বাচ্চু, গোলাম রসুল, কাজী সালমা সুলতানা প্রমুখ।

সভায় পঙ্কজ ভট্টাচর্য বলেন, সমতলে পাহাড়ে দেশের সর্বোত্র দীর্ঘ অব্যবস্থাপনা ও দখলদারিত্বের প্রভাবে জনজীবন সংকটাপন্ন একই সাথে প্রাকৃতি ও আজ আমাদের বিরুদ্ধে বেঁকে বসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মৌলবীবাজার জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় শতাধিকের উপর মানুষ নিহত হবার ঘটনা তার প্রমাণ। অন্যদিকে এখনও পাহাড় ধসের আতংকে বিরাজমান। দেশের রাজনীতিতে ও জটিলতা নিরসনের কোন শুভ উদ্যোগ দেখা’ যাচ্ছে না।

তিনি বলেন জঙ্গিবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা, ধর্মান্ধবাদীদের কাছে টেনে নির্বাচনী বৈতরনী পার হবার মত অতীতের যে আত্মঘাতি ঘটনা তা বর্তমানেও অব্যাহত আছে। সরকারী দল যেমনটি করে আপোষ করে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীন বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্থ করে চলেছেন তার পরিসমাপ্তি যে সুখকর হবে না তা নিকট অতীতের ইতিহাস বলে দিচ্ছে। আমরা মনে করি সব সময়ই ধর্মান্ধবাদীরা বিপদজনক। এরা বিষধর সাপ, এদের সাপুড়ের বাক্সের মধ্যে ভালো মানায়। এদের কাছে বিশ্ব মানবতা আজ বিপন্ন হুমকি ও আতংকের মধ্যে বিশ্ববাসী। এই অপশক্তিকে প্রতিরোধে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বাসিন্দারা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েন তা দেখার যেন কেউ নেই। ফি-বছরই উন্নয়নের কথা বলে যে ফানস ছড়ানো হয় তা বাস্তবে পাওয়া যায় না। একই ভাবে নদ-নদী খননের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট সব সময় হয়ে আসছে আসলে নদ-নদী খনন হয় কিনা তার জবাবদিহিতা কে দিবে।

সভাপতির বক্তব্যে জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে তাতে জঙ্গিবাদী, সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের প্রভাবিত শক্তির মহড়া ও ষড়যন্ত্রের আভাস দেশবাসীর বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না। এরা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ষড়যন্ত্রের বিস্তার করতে চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে নানান জায়গায় সংখ্যালঘুদের মন্দিরে ভাংচুর হয়েছে, সংখ্যালঘু, আদিবাসীরা নির্বাচনের কথা শুনলে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। নির্বাচনী ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিরীহ জনসাধারণ ও সংখ্যালঘুদের উপর আঘাত আসবেনা এ নিশ্চয়তা বিধানের দাবি করছি আমরা।