চলে গেলেন হরিধান খ্যাত হরিপদ

নিউজ ডেস্ক: হরিধান খ্যাত হরিপদ কাপালী আর নেই। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে তিনি ঝিনাইদহের সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগরে নিজ বাড়িতে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। বেশি ফলনের এই ধানের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।

হরিপদ কাপালীর ছেলে রুপকুমার জানান, তার বাবা বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। কয়েক দিন পূর্বে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হলে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এক সপ্তাহ বাড়িতে ভালোভাবে থাকার পর গত তিন দিন আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার প্রস্রাবের সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন বয়স বেশির কারণে এখন অস্ত্রোপচার করা যাবে না। গতকাল বুধবার রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর রাত ১টা ১০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

হরিপদ কাপালী ১৯২২ সালে আসাননগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কুঞ্জলাল কাপালী। দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে প্রথম শ্রেণির পর আর এগোতে পারেননি। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে কৃষি কাজ শুরু করেন হরিপদ। কিন্তু ১৩ বছর বয়সেই বাবাকে হারান। মাত্র ২ বিঘা জমি রেখে বাবা মারা গেলে গোটা সংসারের দায়িত্ব পড়ে তাঁর ওপর। বয়স যখন ১৭ বছর তখন নিজ গ্রামের মেয়ে সুনীতি রাণীকে বিয়ে করেন। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। তাই নিঃসন্তান এই দম্পতি রুপকুমারকে পালক নেন।

রুপকুমার জানান, ১৯৯৬ সালে একদিন মাঠে ধানের খেতে একগোছা বাড়ন্ত ধানগাছ দেখে বাবার মাথায় বুদ্ধি আসে এত গাছের মধ্যে এটা আলাদা কেন। তিনি সেই গাছের ধানগুলো সংরক্ষণ করেন। পরের বছর ওই ধানের চারা দিয়ে পৃথক স্থানে চাষ করেন। এরপর তিনি দেখতে পান ওই ধানের ফলন অন্য ধানের চেয়ে বেশি হচ্ছে। এভাবে কয়েক বছর করার পর এলাকার মানুষ তাঁর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে। এই ধান ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, যশোরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় সাধারণ মানুষ এই ধানের নাম দেন হরিধান।

এদিকে ২০০২ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায় ‘হরিধান, হরিপদের সোনালী সন্তান’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে হরিধান নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। জাতীয়ভাবে নানা গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় হরি ধানের উদ্ভাবন কাহিনি। ২০০৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর হরিপদকে নিয়ে প্রথম আলো আবারও একটি শুক্রবারের বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর সরকারিভাবে তাঁর ধানের স্বীকৃতি মেলে, নাম দেওয়া হয় হরি ধান। ২০০৬ সালে চ্যানেল আই তাঁকে চ্যানেল আই কৃষি পদক প্রদান করেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংগঠন থেকে পুরস্কৃত হন।

হরিপদের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম, কৃষি বিভাগ ঝিনাইদহের উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ আকরামুল হক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাঁন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ, স্থানীয় সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিনসহ স্থানীয় সুধীজন। পরে দুপুরে বদরগঞ্জ শ্মশানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।