কক্সবাজারে বন্যায় ৯’শ গ্রাম প্লাবিত

নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজার জেলার আটটি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯’শ গ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ৯৯২ টি গ্রামের মধ্যে গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার পর্যন্ত ৯’শ গ্রামের ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে আরো নতুন নতুন এলাকা।আর পানিতে ডুবে ও মাটি চাপায় দুই শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছে।

জেলার মাতামুহুরি,বাঁকখালীসহ বিভিন্ন খাল ও নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ লক্ষাধিক মানুষ। ভেঙে পড়েছে আভ্যন্তরিন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ডুবে গেছে ফসলি জমি। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব।ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে প্রস্তুত করা আশ্রয় কেন্দ্রে।

ঈদ ছুটি শেষে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হলেও দুর্গতরা আশ্রয় নেয়ায় এখানে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে দুর্গত অঞ্চলগুলোতে জ্বর, সর্দি ও ডাইরিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে গ্রাম, পরিবার ও জেলাবাসির স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। অন্যদিকে পানিতে ডুবে গেছে জেলার অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।দাবী উঠেছে কক্সবাজার জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার।

এদিকে উখিয়ায় পাহাড় ধসে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাহরিয়ার হোসেন (৭) উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান পাড়ার সরওয়ারুল ইসলামের ছেলে এবং উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের মধ্যম রত্নাপালং এলাকার অমূল্য বড়ুয়ার ছেলে ইতন বড়ুয়া (১৩)।এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়িতে বসতঘরের দেয়াল ধসে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ সহ জেলার অধিকাংশ এলাকায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে চকরিয়া উপজেলায় ৩ লাখ, কক্সবাজার সদরে অন্তত ১ লাখ, রামুতে ১ লাখ, উখিয়ায় ১ লাখ, টেকনাফে ১ লাখ, পেকুয়ায় ৫০ হাজার, কুতুবদিয়া ১ লাখ ও মহেশখালী উপজেলায় ১ লাখ সহ আট উপজেলায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে জনপদ। তলিয়ে গেছে বীজতলাসহ ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের। জেলার প্রধান নদী মাতামুহুরি, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফনদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

কক্সবাজারের ৪টি পৌরসভা কক্সবাজার, চকরিয়া, টেকনাফ ও মহেশখালী পৌরবাসিও পানিবন্দি হয়েছে।এছাড়াও মহেশখালী মাতারবাড়ি, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহ্পরীর দ্বীপ, ছেড়া দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীও অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে আছে। সবদিকে পানি আর পানির কারণে অনেকেই ঘরবন্দি, আবার অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে ঘরবাড়ি ফেলে নিরাপদে সরে এসেছে।